মিষ্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রাজধানীর মিরপুর-১ এ রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, 'তার (মিষ্টি) বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চার্জশিট দেওয়া হবে। চার্জশিটে নাম আসলে তাকে (মিষ্টিকে) আদালতের এখতিয়ারে যেতে হবে। আইনের আওতায় আসবে।'
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, 'তার (মিষ্টি) বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলের পক্ষ থেকেও দলীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা আইনের বাইরে, সাংগঠনিক ব্যবস্থা।'
তিনি আরও বলেন, 'তার আগে একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা কিছু বলা সঠিক নয়।'
নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে, রাড্ডার ঘটনায় নাম আসার পরে গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেকেছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে। সেখানে ঘটনার বিষয়ে মিষ্টির জবাব সন্তুষ্ট করতে পারেনি প্রধানমন্ত্রীকে।
এরপর বুধবার ওই ঘটনায় পুলিশ ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন দেখার পরে মিষ্টিকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে।
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের সূত্র থেকে আরও জানা যায়, কম সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে দল থেকে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও মিষ্টিকে জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি।
বের হওয়ার সময় সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকেরা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টিকে তার পদত্যাগের বিষয়ে প্রশ্ন করলেও তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
এসময় সাংবাদিকেদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।'
আরেকটি গোয়েন্দা সূত্র থেকে জানা গেছে, বুধবার সেনাবাহিনী প্রধান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি বন্ধে করণীয় এবং রোহিঙ্গাদের বান্দরবানের আলী কদমে স্থানান্তর বিষয়ে আলোচনা হয়।
সেই বৈঠকেই সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আলোচিত ঘটনা নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে সম্পৃক্ত যার নামই আসুক, সরকার তার বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেবে। ইসিবিতে নিউ গ্রিনি প্রোপার্টিজের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে শক্ত বার্তা দেওয়া শুরু হয় সরকারের পক্ষ থেকে।
ওইদিনই রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মিষ্টির বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'নিরপেক্ষ তদন্ত চলছে। কারো সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।'
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ওই কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টা থেকে ২টার মধ্যে মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। আলোচনায় আসে এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নামও।
