আশুলিয়ায় ফুটপাত উচ্ছেদে গিয়ে বাধার মুখে আনসার সদস্যরা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া
ঢাকার আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার (ডিইপিজেড) গেটের সামনে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে গিয়ে হকারদের বাধার মুখে পড়েছেন আনসার সদস্যরা। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
একপর্যায়ে হকারেরা সড়ক অবরোধ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
আজ রোববার সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ডিইপিজেডের সামনে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে।
ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রিত ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ডিইপিজেড) ফটকের সামনের মহাসড়কের ফুটপাতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে দোকানপাট বসিয়ে ব্যবসা করছেন হকারেরা। ডিইপিজেডের কারখানাগুলোর শ্রমিকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করা, নিরাপত্তা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী ও ক্রেতাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ সেপ্টেম্বর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করে। এছাড়া হকারদের ওই স্থানে দোকানপাট না বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ ও ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়। তবে কিছু হকার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভাসমান দোকান বসিয়ে ব্যবসা করছিলেন।
তারা জানান, আজ সকাল ৯টার দিকে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত রেখে সংস্কারকাজ শুরুর লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণের চেষ্টা করে ডিইপিজেড কর্তৃপক্ষ। এ সময় হকাররা ওই এলাকায় জড়ো হয়ে ডিইপিজেডের আনসার সদস্যদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে বেলা ১১টার দিকে হকাররা ডিইপিজেডের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এতে সড়কের উভয়পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেলা ১২টার দিকে আশুলিয়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হকার বলেন, "আনসাররা সব হকারদের তুলে দিচ্ছে। আমাদের লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাই।"
হকার শরীফ বলেন, "ফুটপাতের কাজ করা হচ্ছে না। এখন আমরা দোকানপাট করে ব্যবসা করতে চাচ্ছি। কিন্তু আমাদের দোকানপাট করতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে আমরা এখানে (সড়কে) নেমেছি। আমরা সবাই মিলেমিশে দোকান করি। দোকান করে সংসার চালাই।"
ডিইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, "ডিইপিজেডে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আসেন। উনাদের বায়ারেরা (ক্রেতা) আসেন। আর এটির সামনে অবৈধভাবে হকারেরা দোকানপাট বসিয়েছেন। আমাদের প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়ের (প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের) একটা নির্দেশনা ছিল যে ডিইপিজেডের সামনে হকারদের উচ্ছেদ করতে হবে। ডিইপিজেডের ১ লাখ শ্রমিক কারখানায় ঢুকতে এবং বের হতে গিয়ে এসব দোকানপাটের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার শিকার হন। সড়ক ও জনপথ বিভাগ মানিকগঞ্জকে এ বিষয়টি জানানো হলে তারা গত ১২ সেপ্টেম্বর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করে।"
তিনি বলেন, "দখলমুক্ত করার পর বিভিন্ন সময়ে দোকানপাট না বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার নোটিশ ও ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হলেও তারা প্রায়ই ভাসমান দোকানপাট বসাচ্ছেন। আজ ফুটপাতের জায়গাটি চিহ্নিত করে দখলমুক্ত রাখা এবং সংস্কার করে জনসাধারণ ও শ্রমিকদের চলাচল নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে সীমানা নির্ধারণ করতে গেলে হকাররা বাধা দেন। তারা সড়কও অবরোধ করেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।"
