আশুলিয়ায় কারখানা চত্বরে বিস্ফোরণ: দুই দিন পরও বিভিন্ন স্থানে পড়ে আছে সিলিন্ডার, আতঙ্কে স্থানীয়রা
ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে অননুমোদিত পদ্ধতিতে সিএনজি পরিবহন করা কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণ, অগ্নিকাণ্ড ও হতাহতের ঘটনার দুইদিন পরও আশেপাশের বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও অন্যান্য স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়া গ্যাস সিলিন্ডারগুলো নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার পর এখন পর্যন্ত এসব সিলিন্ডার সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাড়ির উঠানসহ বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা সিলিন্ডারগুলোতে গ্যাস আছে কি না, সে বিষয়েও নিশ্চিত নন বাসিন্দারা।
ফলে সিলিন্ডারগুলো থেকে আবারও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে—এমন আতঙ্কে রয়েছেন তারা।
আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম বলেন, 'বাসাবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি যা হওয়ার হয়েছে, সিলিন্ডারগুলো যাদের তারা নিয়ে যাক। এসব সিলিন্ডারের কারণে সবাই আতঙ্কে আছে। এতে গ্যাস আছে কি না বা আবার বিস্ফোরিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা তো আমরা কেউ নিশ্চিত না।'
তিনি জানান, বিস্ফোরণে ছুটে আসা একটি সিলিন্ডার তাদের বাড়ির উঠানেও পড়ে আছে।
শুধু এই বাড়িতেই নয়, স্থানীয় বাসিন্দা ফজর আলী মীরের বাড়ির উঠানেও পড়ে রয়েছে আরেকটি সিলিন্ডার।
পারভীন আক্তার নামে বাড়িটির একজন বাসিন্দা জানান, আবার বিস্ফোরণ হতে পারে এমন আতঙ্কে ঘুমাতেও পারছেন না তারা।
দ্রুত এসব সিলিন্ডার নিরাপদে সড়িয়ে নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জহির মীর নামে স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন, অনেক দূরে দূরে সিলিন্ডারগুলো ছড়িয়ে রয়েছে। পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন জায়গায় সিলিন্ডার। এখনো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো লোকই আসেনি এগুলো নেওয়ার জন্য।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম অবশ্য জানিয়েছেন, সিলিন্ডারগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয়রা বিষয়টি জানিয়েছেন। ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। দ্রুতই সিলিন্ডারগুলো সরিয়ে ফেলা হবে।
উল্লেখ্য, গত রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি গ্রুপের কারখানা চত্বরে একটি সিলিন্ডারবাহী কাভার্ডভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন আশপাশে থাকা আরও কয়েকটি সিলিন্ডারবাহী গাড়িসহ অন্তত ৭-৮টি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে।
একের পর এক বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ও আগুন ছড়িয়ে পড়তে থাকলে আশপাশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষজন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করেন। সবজি বিক্রেতা ও দোকানদারেরা দোকান ফেলে দৌড়ে এলাকা থেকে সরে যান।
বিস্ফোরণের তীব্রতায় একাধিক সিলিন্ডার ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গজের বেশি দূরত্বে ছিটকে পড়ে। সেগুলোর কয়েকটি আবাসিক এলাকায় ও ভবনের ছাদে গিয়ে পড়ে। কোনো কোনো সিলিন্ডার টিনের চালা ফুটো করে ভেতরে ঢুকে যায়।
