রামদা দিয়ে গেটে কোপ, ক্যামেরায় ঢিল: আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টা
রাজধানীর আদাবরে একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। বাড়িটির দখল ফিরে পাওয়ার দেড় বছর না যেতেই—আবারও সশস্ত্র হামলার শিকার হয়েছেন সেখানে বসবাসকারীরা। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শ্যামলী হাউজিং এলাকার ওই বাড়িতে রামদা, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিকের স্বজনেরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির গেট খুলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। গেট না খোলায় তারা বলতে থাকে, 'টাকা দে, বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না? বের হ।' এরপর রামদা ও চাপাতি দিয়ে বাড়ির মূল ফটকে কোপাতে শুরু করে। একপর্যায়ে জানালার কাচ ভাঙচুর করে তারা।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, 'ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'
টিবিএসের হাতে আসা দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হামলার দৃশ্য ধরা পড়েছে। ফুটেজে দেখা যায়, রামদা হাতে দুই ব্যক্তি বাড়ির মূল গেটে কোপাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর আরেকজন এসে সিসিটিভি ক্যামেরা লক্ষ্য করে ঢিল ছোঁড়েন।
এরপর হামলাকারীরা ক্যামেরা দুটিই নষ্ট করে দেন। ফলে হামলার পুরো সময়ের দৃশ্য সিসিটিভিতে ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
বাড়ির মালিক আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন বলেন, 'সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন লোক এসে কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করে। পরে চারজন মূল ফটকের সামনে আসে। তাঁদের দুজনের হাতে চাপাতি, একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটকের কিছুটা দূরে পিস্তল হাতে আরেকজন দাঁড়িয়েছিলেন।' তাঁর দাবি, ওই ব্যক্তিই হামলাকারীদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
মনির হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, গেট না খোলায় হামলাকারীরা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ভাঙচুর চালায়। তারা মূল ফটকের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। ইটের টুকরা ছুঁড়ে দোতলার আরও দুটি জানালার কাচও ভাঙা হয়। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে পরে তারা চলে যায়।
হামলা চলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন মনির। তাঁর অভিযোগ, প্রায় তিন ঘণ্টা পর পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে আদাবর থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়।
মনির হোসেনের দাবি, এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নিয়েছিলেন। তখন আদাবর থানায় অভিযোগ দিয়েও সমাধান না হওয়ায়, আদালতে মামলা করেন তাঁরা। আদালতের নির্দেশে পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিষয়টি তদন্ত করে।
মনির জানান, পিবিআই প্রায় চার মাস তদন্তের পর অভিযোগপত্র দেয়। এরপর গত ১২ মার্চ তাঁরা বাড়িটির দখল ফিরে পান।
