আদাবরে বাড়ি দখলের চেষ্টার ঘটনায় গ্রেপ্তার ৫
রাজধানীর আদাবরের শ্যামলী হাউজিং এলাকায় একটি আটতলা বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগে হামলার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রামদা, চাপাতি ও পিস্তল নিয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি দল বাড়িটিতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন বাড়ির মালিকের স্বজনেরা। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির গণমাধ্যম শাখা থেকে পাঠানো এক বার্তায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানান ডিসি (মিডিয়া) আক্তার হোসেন।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির মূল ফটক খুলে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। গেট না খোলায় তারা 'টাকা দে, বাসায় থাকিস, টাকা দিবি না? বের হ' বলে হুমকি দেয়। এরপর রামদা ও চাপাতি দিয়ে মূল ফটকে কোপাতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা বাড়ির জানালার কাচও ভাঙচুর করে।
টিবিএসের হাতে আসা দুটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে হামলার দৃশ্য দেখা গেছে। ফুটেজে রামদা হাতে দুই ব্যক্তিকে বাড়ির মূল গেটে কোপাতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর আরেক ব্যক্তি সিসিটিভি ক্যামেরা লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়েন। পরে হামলাকারীরা ক্যামেরা দুটিই ভেঙে ফেলে। ফলে হামলার পুরো সময়ের দৃশ্য ক্যামেরায় ধারণ করা সম্ভব হয়নি।
বাড়ির মালিক আমিনুর রহমানের ভাতিজা মনির হোসেন বলেন, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জন লোক এসে কিছুক্ষণ বাড়িটি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে চারজন মূল ফটকের সামনে আসেন। তাদের দুজনের হাতে চাপাতি এবং একজনের হাতে রামদা ছিল। ফটকের কিছুটা দূরে পিস্তল হাতে আরেক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে ছিলেন। তার দাবি, ওই ব্যক্তিই হামলাকারীদের নির্দেশ দিচ্ছিলেন।
মনির হোসেনের ভাষ্য, গেট না খোলায় হামলাকারীরা প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে ভাঙচুর চালান। তারা মূল ফটকের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। পরে ইটের টুকরা ছুড়ে দোতলার আরও দুটি জানালার কাচ ভাঙা হয়। বাড়ির ভেতরে ঢুকতে না পেরে একপর্যায়ে তাঁরা চলে যান।
হামলার সময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশকে খবর দেন মনির। তার অভিযোগ, প্রায় তিন ঘণ্টা পর সকাল পৌনে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। পরে আদাবর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর পুলিশ বাড়িটি পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
দেড় বছর আগে দখল ফিরে পান মালিক
মনির হোসেনের দাবি, এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট খোরশেদ আলম নামে এক ব্যক্তি বাড়িটি দখল করে নিয়েছিলেন। এ ঘটনায় আদাবর থানায় অভিযোগ দিয়েও সমাধান না হওয়ায় তারা আদালতে মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বিষয়টি তদন্ত করে।
মনির জানান, প্রায় চার মাস তদন্তের পর পিবিআই অভিযোগপত্র দেয়। এরপর গত ১২ মার্চ তারা বাড়িটির দখল ফিরে পান।
তার দাবি, বাড়িটির দখল ফিরে পাওয়ার দেড় বছর না যেতেই আবারও সশস্ত্র হামলার শিকার হলেন সেখানকার বসবাসকারীরা।
