লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল মালয়েশিয়া হালাল বাণিজ্য মেলা, ২ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ পেল বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে শেষ হলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ হালাল বাণিজ্য মেলা 'মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল হালাল শোকেস (মিহাস)'-এর এবারের আসর।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়া এক্সটার্নাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (ম্যাট্রেড) জানিয়েছে, আজ শনিবার মেলার চতুর্থ তথা শেষ দিন সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ ৫.৫ বিলিয়ন মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত ছাড়িয়েছে। আজ দিনের শেষে এটি ৬ বিলিয়ন রিঙ্গিত পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলেও ধারণা তাদের।
বাংলাদেশের ছয়টি প্রতিষ্ঠান ও রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবারের প্রদর্শনীতে অংশ নেয়। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো প্রাণ, ঘরের বাজার, প্যারাগন অ্যাগ্রো, তালুকদার অ্যাগ্রো ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ, নওরিশ ফুডস, বায়োফার্মা লিমিটেড ও বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠান মৈত্রী ইনফিনিটি।
বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাণ-এর মালয়েশিয়াভিত্তিক পরিবেশক পিনাকল ফুডস মেলার মাধ্যমে ২ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি আদেশ পাওয়ার কথা জানিয়েছে। অন্য প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পর্যন্ত সরাসরি রপ্তানি আদেশ পাওয়ার কথা জানায়নি। তবে মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ক্রেতা ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
গত বুধবার থেকে এই প্রদর্শনী শুরু হয়। কুয়ালালামপুরের মালয়েশিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে (মাইটেক) বসে মিহাসের ২২তম আসর। ম্যাট্রেডের প্রাক-মেলা লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪.৫ বিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি সম্ভাব্য বাণিজ্য। প্রদর্শনীতে এক হাজার ৭০০-এর বেশি প্রদর্শক এবং প্রায় ২ হাজার ৩৮০ বুথের কথা আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছিল। মেলায় খাদ্য ও পানীয়, ওষুধ, প্রসাধনী, ফ্যাশন, ইসলামিক ফাইন্যান্স, প্রযুক্তি ও অন্যান্য ১৪টি খাতের পণ্য ও সেবা প্রদর্শন করা হয়।
মেলার চতুর্থ দিনে ম্যাট্রেড-এর চেয়ারম্যান দাতুক সেরি রিজাল মেরিকান নায়না মেরিকান বলেন, গত চারদিনে ৫.৫ বিলিয়ন রিঙ্গিতের বিক্রির হিসাব পাওয়া গেছে, যার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) মূল্য এবং এজেন্টিক এআইয়ের মাধ্যমে আলাদাভাবে সম্পন্ন হওয়া লেনদেন অন্তর্ভুক্ত নেই। ফলে মোট বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মূল্য আরও বেশি হতে পারে। ম্যাট্রেডের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল ৫ বিলিয়ন রিঙ্গিতের বেশি সম্ভাব্য ব্যবসা তৈরি করা।
প্রদর্শনী শুরুর আগে ম্যাট্রেড জানিয়েছিল, আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও মালয়েশিয়ার রপ্তানিকারকদের মধ্যে ৪ হাজারের বেশি বি-টু-বি বৈঠকের আয়োজন করা হবে। ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং প্রোগ্রামের আওতায় ২০০-এর বেশি আন্তর্জাতিক ক্রেতাকে যুক্ত করার লক্ষ্যও ছিল।
বাংলাদেশের অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা অবশ্য মিহাস-এর সামগ্রিক বাণিজ্যিক ফলাফলের তুলনায় কিছুটা ভিন্ন। প্রদর্শনী শুরুর আগে প্রাণ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গত বছরের মেলা থেকে ১.৫ মিলিয়ন ডলারের অর্ডার পাওয়া গিয়েছিল এবং এবার তা ২ মিলিয়ন ডলার ছাড়ানোর প্রত্যাশা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
মেলার শেষ দিকে পিনাকল ফুডস এর হেড অব মার্কেটিং ও ই-কমার্স সজীব রানা জানান, এবার প্রাণ পণ্যের জন্য ২ মিলিয়ন ডলারের রপ্তানি অর্ডার পাওয়া গেছে। আরও কয়েকজন ক্রেতার সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেখান থেকে প্রায় ১ মিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত অর্ডার আসতে পারে।
নওরিশ ফুডস-এর এজিএম মো. হাসিব বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ডিস্ট্রিবিউটরের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ হয়েছে এবং তারা সাড়া পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন।
প্যারাগন ফুডস এর এজিএম (এক্সপোর্ট) আবুল কালাম আজাদ বলেন, মালয়েশিয়ার বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং অন্যান্য দেশের ক্রেতারাও যোগাযোগ রাখার কথা জানিয়েছেন।
বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে মেলার শুরুতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ইপিবি এর স্টলে তৈরি পোশাক, ওষুধ, হারবাল পণ্য, সিরামিক, পাটপণ্য, চা ও চামড়াজাত পণ্যসহ বিভিন্ন রপ্তানিযোগ্য পণ্য প্রদর্শন করা হয়। বাংলাদেশ হাইকমিশনও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহযোগিতা করেছে।
