চট্টগ্রামে অনলাইন প্রতারণা-জালিয়াতির অভিযোগ, ৫ দেশের ৬৩ নাগরিক গ্রেপ্তার
চট্টগ্রাম নগরের খুলশীতে বাসা ভাড়া নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে অনলাইন প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে পাঁচ দেশের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিইউ) ও খুলশী থানা পুলিশ।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মুহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ।
গ্রেপ্তারেরা চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের নাগরিক।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলশী থানার কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সিএমপি জানায়, প্রায় দেড় মাস আগে ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল চক্রটি।
অভিযানে তাদের কাছ থেকে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কিবোর্ড, একটি মাউস, একটি প্রিন্টার ও পাঁচটি পেনড্রাইভ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ড জব্দ করা হয়।
পুলিশের জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জানিয়েছেন যে তারা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় অবস্থান করে বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও ওয়েবসাইট ব্যবহার করে প্রতারণা এবং অন্যান্য অনলাইন অপরাধে যুক্ত ছিলেন।
সিএমপি আরও জানায়, বাংলাদেশে তাদের অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের একটি নেটওয়ার্ক রয়েছে। এসব সহযোগীর মধ্যে কয়েকজন চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ও তাদের সহযোগীরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে সংঘবদ্ধভাবে আর্থিক প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং অনুমোদনহীন ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অপরাধ করে আসছিলেন।
সিএমপি জানায়, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬৩ জনের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে চক্রটির সঙ্গে জড়িত দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
