‘খোকনের আচরণ সঠিক ছিল না’: প্রধান বিচারপতির এজলাস ছাড়ার ঘটনা নিয়ে আইনমন্ত্রী
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, এজলাস থেকে গতকাল প্রধান বিচারপতি যেভাবে আদালত থেকে উঠে গেলেন, এই উঠে যাওয়া আমাদের কাছে নিশ্চিতভাবে মনে হয়েছে যে, আইনজীবী যে আচরণ প্রদর্শন করেছিলেন, তা সঠিক ছিল না। তবে আজ প্রধান বিচারপতি এ ঘটনার জেরে আদালত অবমাননার রুল জারি করবেন বলে মনে হলেও সকাল ৯টায় এজলাসে উঠে তিনি যথারীতি কাজ শুরু করেছেন এবং ওই আইনজীবীও প্রধান বিচারপতির আদালতেই স্বাভাবিকভাবে মামলা পরিচালনা করেছেন বলে খবর পেয়েছেন তিনি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান মোমেনের এক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে একটি মামলায় ড. কামাল হোসেন, রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ ও রোকনউদ্দিন মাহমুদ মুখোমুখি হয়েছিলেন। এজলাসে বিচারকের এক প্রশ্নের সূত্র ধরে রফিক-উল হক ও রোকনউদ্দিন মাহমুদের মধ্যে তীব্র বাক্যযুদ্ধ শুরু হয়। তাদের মধ্যকার অনাকাঙ্ক্ষিত বাকবিতণ্ডা ও কটু ব্যক্তিগত আক্রমণ দেখে অপ্রীতিকর সংঘাতের আশঙ্কায় বক্তা বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।
তবে আদালত কক্ষের বাইরে এসে নিজের রুমে ঢুকে তিনি দেখেন, এজলাসে বিবাদে জড়ানো সেই আইনজীবীরাই একসঙ্গে বসে চা পান করছেন। ঠিক গতকালের ঘটনার পর আজ প্রধান বিচারপতি স্বাভাবিক বিচারকাজ শুরু করেছেন।
তিনি বলেন, আজ সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান সংসদে গতকালের ঘটনাটি নিয়ে যে প্রশ্নটি উত্থাপন করেছেন, নিশ্চিতভাবে প্রশ্নটি আলোচনার দাবি রাখে। তবে তিনি যেটা বলেছেন, ক্ষমতার পৃথকীকরণ তত্ত্ব এখানে প্রযোজ্য হয় না। কারণ, একজন আইনজীবী যে আচরণ প্রদর্শন করেছেন এবং তিনি ঘটনাক্রমে সর্বোচ্চ আদালত আইনজীবী সমিতির সভাপতি ছিলেন—সর্বোচ্চ আদালত আইনজীবী সমিতি বাংলাদেশের তিনটি অঙ্গের কোনো অঙ্গেরই অংশ নয়।
তিনি আরও বলেন, বার একটি অনানুষ্ঠানিক সংস্থা। এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালতে আইনচর্চারত সদস্যদের একটি সমিতি। সুতরাং, তারা জনগণের অংশ। সেই জনগণের অংশ হিসেবে বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ কিংবা শাসন বিভাগ—কোনোটাকেই এই আইনজীবী প্রতিনিধিত্ব করেননি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, 'আমি সংসদ সদস্যকে আপনার মাধ্যমে ধন্যবাদ জানাই, এরকম একটি বিষয় সামনে নিয়ে এসেছেন, আমরা আলোচনা করতে পারলাম। তবে এটি রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের কোনো অঙ্গের মধ্যেই যেহেতু পড়ছে না, এটি জনগণের একটি অংশ হিসেবে উনি গিয়েছেন। আর এ ধরনের ঘটনা আদালতে ভবিষ্যতে দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে কেউ ঘটাবেন না বলে আমরা প্রত্যাশা রাখি।'
