স্ত্রীকে শিকলে বেঁধে নির্যাতন, দুই দিন পর মিলল মরদেহ
স্ত্রীকে খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের ভিডিও তার ভাইকে পাঠিয়েছিলেন স্বামী। এর দুই দিন পর রাজধানীর খিলক্ষেতের একটি বাসা থেকে মুক্তা ইসলাম মাওয়া (২৫) নামের ওই নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
এ ঘটনায় তার স্বামী মো. সোহেল শিকদারকে (৩১) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মুক্তাকে নির্যাতন করে হত্যার পর আত্মহত্যার ঘটনা সাজাতে তার মরদেহ সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। তবে পুলিশ বলছে, নির্যাতনের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে, নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) খিলক্ষেতের ৫ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে মুক্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একই দিন তার স্বামী সোহেলকে আটক করা হয়।
পরে মুক্তার ছোট ভাই তানভীর রহমান বাদী হয়ে সোহেলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলার অন্য আসামিরা হলেন সোহেলের ভাগনে আলিফ হোসেন (২২), বোন কাজল বেগম (৪৫) ও বোনের স্বামী মো. বাশার (৫৫)।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের দুই দিন আগে গত মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মুক্তাকে নির্যাতন করেন সোহেল। ওই নির্যাতনের ভিডিও তিনি মুক্তার ভাই তানভীরকে মেসেঞ্জারে পাঠান। সঙ্গে লেখেন, 'তোমার বোনকে নিয়ে যাও।'
গ্রেপ্তারের পর সোহেলের মুঠোফোনেও ভিডিওটি পেয়েছে পুলিশ। ভিডিওতে মুক্তার পা খাটের সঙ্গে শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় সোহেল তাকে বেল্ট দিয়ে মারধর করছিলেন। সঙ্গে বলছেন, 'কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু।' মুক্তা তখন তাকে বলেন, 'আমি কিছু করিনি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।'
এ সময় পাশের ঘরে তাদের দুই সন্তান সাফওয়ান (সাড়ে ৫ বছর) ও তাসফিয়া (সাড়ে ৪ বছর) কান্না করছিল। তাদের কান্না শুনে মুক্তা স্বামীকে বলেন, 'আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।'
এর দুই দিন পর ওই বাসা থেকেই মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহারে মুক্তার ছোট ভাই তানভীর অভিযোগ করেন, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের মিথ্যা অভিযোগ তুলে মুক্তাকে মারধর করতেন তার স্বামী। এতে সোহেলের বোন, বোনের স্বামী ও ভাগনে প্ররোচনা দিতেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খিলক্ষেত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব ভৌমিক টিবিএসকে বলেন, "মৃত্যুর দুই দিন আগে মুক্তাকে মারধরের ভিডিও তার স্বামীর ফোনে পাওয়া গেছে। তবে মারধরে তার মৃত্যু হয়েছে, নাকি তিনি আত্মহত্যা করেছেন—তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে।"
তিনি জানান, সোহেল দাবি করেছেন, ঘটনার দিন সকালে বাজার করে বাসায় ফিরে তিনি মুক্তাকে ওড়না দিয়ে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। তবে স্ত্রীকে মারধরের কথা সোহেল স্বীকার করেছেন বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
