চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে: ববি হাজ্জাজ
দেশের প্রায় চার কোটি মানুষকে সাক্ষরতা ও শিক্ষার আওতায় আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
শিক্ষা খাতে বরাদ্দ করা জিডিপির ২ শতাংশ অর্থ শুধু ভবন নির্মাণে নয়, প্রাথমিক স্তরে সঠিক শিক্ষা নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনা, সাক্ষরতা বৃদ্ধি ও দক্ষতা উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলেও জানান তিনি। আগামীতে শিক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশে এখনো প্রায় ২২ শতাংশ মানুষ সাক্ষরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে। এর বড় একটি অংশ প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সী অনেক শিশুও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে রয়েছে।
তিনি বলেন, 'এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে শিক্ষা ও দক্ষতার মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।'
শিক্ষা বাজেট প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'শিক্ষার বাজেটে প্রধানমন্ত্রী জিডিপির ২ শতাংশ দিয়েছেন। আগামীতে ৫ শতাংশ দেবেন। এটা শুধু বিল্ডিং বানানোর জন্য নয়। এই বাজেট যাবে প্রাথমিকে সঠিক শিক্ষা দিতে, শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরত নিয়ে যেতে।'
বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মূলধারায় ফেরাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক বিষয়গুলো শেখানোর পর দ্রুত বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে মিড ডে মিল, ইউনিফর্মসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রকল্পের মাধ্যমে 'অ্যাক্সিলারেটেড লার্নিং'-এর আওতায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনার কাজ করা হবে বলেও জানান তিনি।
ববি হাজ্জাজ বলেন, 'উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রজেক্টের দায়িত্ব স্কুলে ফেরত নিয়ে আসা থ্রু অ্যাক্সিলারেটেড লার্নিং।'
অ্যাক্সিলারেটেড লার্নিংয়ের মাধ্যমে দেওয়া শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের 'রেমিডিয়াল এডুকেশন' কার্যক্রমেও ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'তাদের যে লার্নিং প্রোগ্রাম হবে, সেটা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ব্যবহার করতে পারে তাদের রেমিডিয়াল এডুকেশন হিসেবে।'
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতায়িত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, সংখ্যার বিচারে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে হবে। চলমান কার্যক্রমকে আরও ফলাফলমুখী করার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রকল্পের 'রিস্কোপিং', 'রিডিজাইনিং' ও 'রিফোকাসিং' করতে হবে।
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রমের পরিধি আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কার্যক্রমকে নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলা ও উপজেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে আরও বড় পরিসরে নেওয়া প্রয়োজন।
'এগুলো ৪০টা জেলায় ৪০টা জায়গায় ৪০টা উপজেলা—এইভাবে না, আরও বড় আঙ্গিকে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ। আগামীতে আলোচনা করব কীভাবে আমরা নেক্সট স্টেপটা আরও বড়ভাবে করতে পারি,' বলেন তিনি।
শিক্ষার লক্ষ্য বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, 'আমরা এক মন্ত্রণালয় ও এক পরিবারের অধীনে এবং সবাই প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষার ভিশন বাস্তবায়ন করার জন্যই কাজ করছি। স্কিলটা আমরা নেক্সট লেভেলে নিয়ে যাচ্ছি।'
তিনি আরও বলেন, শুধু সাক্ষরতার হার বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। এমন শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যা মানুষের জীবনমান উন্নত করবে, মূল্যবোধ তৈরি করবে এবং কর্মজীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখার সক্ষমতা তৈরি করবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন, বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা শিশুদের ফিরিয়ে আনা এবং তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ কাজে ইউনেস্কো, বিভিন্ন এনজিও ও অন্যান্য সহযোগী প্রতিষ্ঠানও কাজ করছে।
'ইউনেস্কো আমাদের সহযোগী আছে। অনেক এনজিও বা ইনফরমাল বডি কাজ করছে আমাদেরকে সহযোগিতা করার জন্য। আগামী দিনগুলোতে প্রধানমন্ত্রীর যে ভিশন আছে, সেটা বাস্তবায়ন করার জন্য কাজ করছি,' বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক মনোয়ারা ইশরাত। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব জেসমিন নাহার এবং অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
