স্থানীয় সরকার নির্বাচন: পোস্টার ও জনসভা নিষিদ্ধ করে নতুন আচরণবিধি জারি ইসির
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদের জন্য প্রায় অভিন্ন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই বিধিমালায় নির্বাচনি প্রচারে পোস্টার ব্যবহার এবং শোভাযাত্রা ও জনসভা করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে আলাদা আলাদা আচরণবিধির এই গেজেট ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি প্রকাশ করা হলেও প্রতিটি আচরণবিধি প্রায় একই ধরনের।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচন হবে নির্দলীয়। তাই সে অনুযায়ী নতুন করে এই আচরণবিধিমালা তৈরি করেছে কমিশন। নির্বাচনের দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত না হলেও ইসি এরই মধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।
পোস্টার নিষিদ্ধ, থাকছে ডিজিটাল প্রচারের সুযোগ
নতুন আচরণবিধিতে কিছু বিষয় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকারের ভোটেও কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল ও বিলবোর্ডের মাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন পরিমাপের প্রচারসামগ্রী ব্যবহার করা যাবে, তাও নির্ধারিত করে দিয়েছে ইসি।
নির্বাচনে ডিজিটাল মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানো, চরিত্র হনন, ভুয়া তথ্য বা ঘৃণাত্মক বক্তব্য প্রচার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইনে প্রচার শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট আইডি ও ই-মেইল রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
প্রচারণা ও জনসমাগমে বিধিনিষেধ
আগের মতোই স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচারের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়া জনসভা বা মিছিল করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীর সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচজন সমর্থক থাকতে পারবেন। ভোটারদের প্রভাবিত করতে কোনো ভোটারের বা তার পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত এনআইডি নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না। এছাড়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে লেনদেনের উদ্দেশ্যে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা যাবে না।
ব্যানার, লিফলেট ও সীমিত সংখ্যায় বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ রাখা হলেও মাইক ও ভ্রাম্যমাণ বাহন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা জনসংযোগ, পথসভা ও ঘরোয়া সভা করতে পারবেন।
আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া গুরুতর লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে।
উপজেলা ভিত্তিক ইউপি নির্বাচন
এদিকে সোমবার নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন এবার উপজেলা ভিত্তিক অনুষ্ঠিত হবে। এক্ষেত্রে একটি উপজেলার যতগুলো ইউনিয়ন আছে সেগুলো একই সঙ্গে হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় কমিশন এবং প্রথম ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা ও ১৩টি সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন পদে ধাপে ধাপে এই ভোট আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি।
