ব্যর্থ হলে সক্ষম ব্যক্তিদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দিন: সরকারের উদ্দেশে আসিফ মাহমুদ
বর্তমান সরকার জনগণের মৌলিক সমস্যার সমাধান করতে না পারলে সক্ষম ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। আর যদি আপনারা মনে করেন আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন, আপনাদের সক্ষমতা নেই, তাহলে বাংলাদেশে সক্ষম লোকের কোনো অভাব নেই। ১১ দলীয় জোটে অনেক অভিজ্ঞ মানুষ ও বিশেষজ্ঞ আছেন। আপনারা তাদের হাতে দেশ তুলে দিন।'
এনসিপির এই মুখপাত্র দাবি করেন, গত সরকারের আমলে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান সরকারের ছয় মাসে তা আরও খারাপ হয়েছে। মানুষ আবার আগের পরিস্থিতির দিকে ফিরে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আমরা যখন অনেক ছোট ছিলাম, সামনে আমাদের মুরব্বিরা আছেন, মঞ্চে অনেক প্রবীণ রাজনীতিক আছেন—এক থেকে পাঁচজনের আমলসহ বিভিন্ন সময় আমরা দেখেছি। আমার মনে হচ্ছে, আমরা আস্তে আস্তে আবার সেই আমলের দিকে ফিরে যাচ্ছি।'
জনগণের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, 'মানুষ আবার রাত জেগে থাকছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ানো হয়েছে। একটু আগে একটি নিউজ দেখলাম, ইন্টারনেটের দাম বাড়ানো হবে, আবার এর গতিও কমে যাবে। এভাবে পিছনের দিকে যেতে যেতে আমরা মনে হয় আবার সেই জায়গায় ফিরে যাব।'
সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'এই সরকার গঠনের পর থেকে মূল সমস্যায় হাত না দিয়ে তারা ইতিমধ্যে ফেল হওয়া কিছু স্কিম নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। খাল খনন করতে গিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ আসছে। বিভিন্ন জায়গায় খাল খনন না করেই অর্থ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।'
সরকারের কর্মসংস্থানমূলক উদ্যোগের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'তারা প্রথমে বলল ১০টা-১২টা কাজ দেবে। এখন আরও অনেক কাজ দেওয়ার কথা বলছে। অথচ আমার বাসায় বিদ্যুৎ নেই। বিদ্যুৎ না থাকলে কাজ দিয়ে আমি কী করব? সরকারের কাছে যদি এমন কোনো কার্ড থাকে, যে কার্ডটা পেলে বাসায় বিদ্যুৎ থাকবে, গ্যাস থাকবে—তাহলে দয়া করে আমাদের সেই কার্ডটা দেন।'
সরকারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'আমরা বৃক্ষরোপণের কমিশন করেছি। তারা কিছুদিন আগে বলেছে, আড়াই কোটি গাছ লাগিয়েছে। এখন ওই দুষ্টু লোকেরা ফেসবুকে বলছে—আড়াই কোটি ধানগাছ লাগিয়েছে কি না। কারণ কাজটা আমরা দেখতে পাচ্ছি না।'
তিনি আরও বলেন, 'সরকারের যেখানে গ্যারান্টি হওয়ার কথা ছিল জনগণের ভোগান্তি কমানোর, সেখানে সেটি না করে তারা কিছু কার্যক্রম করতে গিয়ে দেশটাকে এখন খাদের কিনারায় নিয়ে গেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় যেসব জিনিস প্রতিদিন মানুষের প্রয়োজন, সেগুলো নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। জনগণের ভোগান্তি কমানোর জায়গায় সরকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।'
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে দাবি করে আসিফ মাহমুদ বলেন, 'আমরা আবার পিছনের দিকে ফিরে যাচ্ছি। আমরা ডিজিটাল থেকে আবার স্লো হয়ে যাচ্ছি। নেট স্লো হয়ে গেছে। আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে আপনারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিন। আপনারা সংস্কার করুন। আর যদি আপনারা মনে করেন যে আপনারা ব্যর্থ হচ্ছেন, আপনাদের সক্ষমতা নেই, তাহলে বাংলাদেশে সক্ষম লোকের কোনো অভাব নেই।'
লংমার্চের কর্মসূচি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, '১১ দলীয় জোট এ দেশের জনগণের অধিকারের কথা বলতে, তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা বলতে এই কর্মসূচি দিয়েছে। আজকের এই কর্মসূচি অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন হতে চলেছে।' এ সময় তিনি গ্যাস-বিদ্যুৎসহ গণদাবি বাস্তবায়ন এবং জনগণের ভোগান্তি কমানোর আন্দোলনে সবাইকে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।
