মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ বিলে সংশোধনের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬ এবং গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬-এ কিছু পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। তবে বিল দুটির যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের আপত্তি রয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার রাখার সুপারিশ করেছে।
কমিশনারদের মধ্যে অন্তত একজন নারী এবং জাতীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অন্তত একজন সদস্য রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিশনে নিয়োগের জন্য সুপারিশ প্রণয়নকারী সার্চ কমিটিতে মানবাধিকার বিষয়ে প্রতিবেদন তৈরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন সাংবাদিককে অন্তর্ভুক্ত করারও সুপারিশ করেছে কমিটি। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ওই সাংবাদিককে মনোনীত করবেন বলে সুপারিশ করা হয়েছে।
কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নওশাদ জামির জাতীয় সংসদে প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন।
এ ছাড়া 'ট্রান্সফার অব প্রপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ২০২৬'- যাচাই-বাছাই শেষে সংশোধিত আকারে পাস করার সুপারিশ করেছে আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি।
অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি 'গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬'-এ গুমের সংজ্ঞা সংশোধনের সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত সংশোধিত সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারী বা সুশৃঙ্খল বাহিনীর সদস্য তার দায়িত্ব পালনের সময় অথবা কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা সুশৃঙ্খল বাহিনীর অনুমোদন, সমর্থন বা সম্মতিতে কোনো ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, আটক, অপহরণ বা অন্য কোনোভাবে তার স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করেন এবং পরবর্তী সময়ে ওই ব্যক্তির স্বাধীনতা হরণের বিষয়টি অস্বীকার করেন অথবা তার অবস্থান, অবস্থা বা পরিণতি গোপন করেন—যার ফলে ওই ব্যক্তি আইনি সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত হন—তাহলে সেটিকে গুম হিসেবে গণ্য করা হবে।
কমিটির চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদিন সংসদে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিলগুলো উত্থাপনের পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল এবং 'ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল'-সংসদে উত্থাপন করেন। আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলটি উত্থাপন করেন।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলোকে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেন।
তবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মোহাম্মদ নজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিলের পরবর্তী আলোচনা এবং যাচাই-বাছাইয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নেননি।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে কোনো পরামর্শ ছাড়াই সরকার 'ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশন অর্ডিন্যান্স, ২০২৫'- বাতিল করার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নজিবুর রহমানের অভিযোগ, অধ্যাদেশটি বাতিলের পর সরকার আরও শক্তিশালী আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রস্তাবিত বিলটি আগের ব্যবস্থার তুলনায় দুর্বল ও সংকীর্ণ।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বিলটি 'প্যারিস প্রিন্সিপালস, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইন্সটিটিউশন'-এর মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দলিলগুলোর বিষয়গুলো যথাযথভাবে প্রতিফলিত করেনি।
দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার সময়সীমারও সমালোচনা করেন তিনি।
তার মতে, এত অল্প সময়ে অর্থবহ পরামর্শ ও স্বাধীনভাবে যাচাই-বাছাই করা সম্ভব নয়। এতে সংসদীয় কমিটিগুলো 'রাবার স্ট্যাম্পে' পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
তবে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি বিল দুটির ওপর বিস্তারিত আলোচনা করেছে। যাচাই-বাছাই শেষে কমিটি সংশোধনীসহ বিল দুটি পাস করার সুপারিশ করেছে।
