জুলাই যোদ্ধাকে মারধর-হত্যাচেষ্টার অভিযোগে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, মারধর, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদা দাবির অভিযোগে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তাসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার একটি আদালতে মামলা করেছেন মো. গিয়াস উদ্দিন (৪৮) নামে এক জুলাই যোদ্ধা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে তিনি মামলার আবেদন করেন।
এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। আগামী ৫ অক্টোবরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. ইয়াসিন মিয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন (৩০), কর্মকর্তা মেহেদী হাসান প্রিন্স (২৮), আফজালুর রহমান সায়েম (২৫), আলিফ এবং এক্সিকিউটিভ মেম্বার সাবরিনা আফরোজ শ্রাবন্তী (২৬)।
এছাড়া সাইদুর রহমান শাহিদ (২৪), সাগর (২৯), ইয়াছিন মোস্তফা, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা ও ইয়াসিন মোস্তফাকে আসামি করা হয়েছে। মামলায় তাদের ঠিকানা জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন সংশ্লিষ্ট হিসেবে দেখানো হয়েছে।
বাকি আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- কেরানীগঞ্জের হারুন অর রশিদ, রমনা এলাকার মো. কামরুল হোসেন এবং মালিবাগের ফাতেমা আফরিন পায়েল। মামলার আবেদনে অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার আবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগী মো. গিয়াস উদ্দিন (৪৮) একজন গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধা। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে প্রাপ্য ৩ লাখ টাকার চেক ও অন্যান্য সরকারি সুবিধা পেতে তিনি একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন। তবে আসামিরা বিভিন্নভাবে তার কালক্ষেপণ করান এবং পরে সুবিধা পেতে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দাবি করেন।
গত বছরের ৩ মে বিকেল ৩টার দিকে চেক নেওয়ার জন্য ফাউন্ডেশনে গেলে আসামিরা তার কাছে চেকের ৫০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে একটি কক্ষে নিয়ে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাকে দেয়ালে ধাক্কা দিলে লোহার রডে মাথায় আঘাত লেগে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
এছাড়া তার জুলাই যোদ্ধার ফাইল, চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র ফাউন্ডেশনে রেখে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
