Skip to main content
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
The Business Standard বাংলা

Friday
August 28, 2026

Sign In
Subscribe
  • অর্থনীতি
  • বাংলাদেশ
  • আন্তর্জাতিক
  • খেলা
  • বিনোদন
  • ফিচার
  • ইজেল
  • মতামত
  • অফবিট
  • সারাদেশ
  • কর্পোরেট
  • চাকরি
  • প্রবাস
  • English
FRIDAY, AUGUST 28, 2026
সার সংকট: কৃষিতে বড় কোনো বিপর্যয়ের প্রথম ধাপ?

বাংলাদেশ

সাদিক মাহবুব ইসলাম
26 August, 2026, 07:40 pm
Last modified: 26 August, 2026, 08:26 pm

Related News

  • দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই—সংকট যতটা বাস্তব, তার চেয়ে বেশি রটানো হচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী
  • ডুবছে খেত, পচছে ফসল: হাওরের ৪৭ হাজার হেক্টর জমির ধানে লোকসান গুনছেন কৃষকরা
  • আল জাজিরা প্রতিবেদন: হাজার মাইল দূরের যুদ্ধের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিতে
  • মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সার আমদানিতে বিঘ্ন, বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ
  • ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা

সার সংকট: কৃষিতে বড় কোনো বিপর্যয়ের প্রথম ধাপ?

বেশিরভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা উৎপাদন সক্ষমতার নিচে চলায় এবং বার্ষিক চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি আমদানির ওপর নির্ভর করায়, সার সংগ্রহ কিংবা বণ্টনে যেকোনো ধরনের ব্যাঘাত বর্তমানের আঞ্চলিক সংকটকে সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে পারে।
সাদিক মাহবুব ইসলাম
26 August, 2026, 07:40 pm
Last modified: 26 August, 2026, 08:26 pm
সরকারি হিসাবের খাতা-কলমে মজুতের তথ্য থাকলেও, কৃষকদের কাছে সার থাকছে নাগালের বাইরে। ছবি: টিবিএস

গত ২৩ আগস্ট কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে ২০০ জনের বেশি কৃষক কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করেও সার না পেয়ে, ডিলারের গুদাম ভেঙে প্রায় ১০,০০০ কেজি ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ডিলারের জন্য ১,৩২০ বস্তা বরাদ্দ থাকলেও—গুদামে ৩৪০ বস্তা মজুত ছিল বলে জানা যায়।

এর আগে ১০ আগস্ট লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় কৃষকরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ দামে—টিএসপি ২,০০০–২,২০০ টাকা, ডিএপি ১,৭০০–১,৮০০ টাকা এবং ইউরিয়া ১,৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।

যদিও সরকারের পক্ষ থেকে সার সংকট নেই বলে দাবি করা হচ্ছে, তবে দেশের একাধিক অঞ্চলের কৃষকেরা সরকারের এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের মতে, সার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে এবং নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে তা বিক্রি হচ্ছে। ফলে আসন্ন আমন মৌসুমে সার প্রয়োগের পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে— এমন আশঙ্কার কথা জানান তারা।

এছাড়া উদ্বেগ কেবল আমন মৌসুম ঘিরে নয়। আসল পরীক্ষা অপেক্ষা করছে সামনের শীতকালীন সবজি ও বোরো মৌসুমে। কারণ এ সময় সারের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়ে যায় এবং সারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর হওয়ায় বৈশ্বিক মূল্যের ওঠানামা, ভূ-রাজনৈতিক সংকট ও অভ্যন্তরীণ দুর্বল উৎপাদনের কারণে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে।

বেশিরভাগ সরকারি সার কারখানা সক্ষমতার চেয়ে কম উৎপাদনে থাকা এবং বার্ষিক চাহিদার ৭০ শতাংশেরও বেশি আমদানির মাধ্যমে মেটাতে হওয়ায়, সংগ্রহ বা বণ্টন ব্যবস্থার যেকোনো ব্যাঘাত—বর্তমানের স্থানীয় পর্যায়ের সার সংকটকে এক ব্যাপক সরবরাহ সংকটে রূপ দিতে পারে। এটি একদিকে যেমন কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেবে, অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকির ওপর চাপ বাড়াবে। শেষপর্যন্ত তা খাদ্যের দাম বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।

কাগজে-কলমে মজুত, কিন্তু মাঠে হাহাকার

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে সারের মোট চাহিদার প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬৭.৭ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রয়েছে ২৬.২ লাখ টন ইউরিয়া, ১৩.৫ লাখ টন ডিএপি, ৯.৭ লাখ টন এমওপি, ৯.০১ লাখ টন টিএসপি এবং ৯.২১ লাখ টন অন্যান্য সার (যেমন এনপিকেএস, জিপসাম, বোরন ও বিভিন্ন ধরনের সালফেট)।

তবে এই বিশাল প্রত্যাশিত চাহিদার বিপরীতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে সারের মোট মজুত রয়েছে ১৬ লাখ টনের সামান্য কিছু বেশি। সরকারের নির্ধারিত খুচরা মূল্য হলো টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা।

নওগাঁ ও বগুড়ার সার ডিলারা বলছেন, জেলা পর্যায়ে সারের ঘাটতি প্রধান সমস্যা নয়; বরং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এবং বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলারদের জন্য বরাদ্দ ও বন্টন ব্যবস্থার গরমিলই মূল সমস্যা। এছাড়া তারা আমন মৌসুমে ডিএপি সারের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়াকেও সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

নওগাঁর বদলগাছীর খালসি বাজারের বিএডিসি ডিলার এবং মেসার্স মণ্ডল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম জানান, বিএডিসি ডিলাররা কেবল ডিএপি, এমওপি ও টিএসপি সার পান, যার ফলে কৃষকদের সব ধরনের সারের চাহিদা তারা মেটাতে পারেন না।

"এর ফলে কৃষকরা তাদের নিকটবর্তী ডিলারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না," বলেন তিনি।

মাটির উর্বরতা হ্রাস পাওয়া এবং অতিরিক্ত ফসল চাষ করাকে ডিএপি সারের বাড়তি চাহিদার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন রফিকুল।

"গত কয়েক বছর ধরেই মাটির উর্বরতা কমছে, এতে ডিএপি সারের চাহিদা দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এ অঞ্চলের কৃষকেরা একই জমিতে তিন থেকে চারটি ফসল চাষ করছেন। ফলে বরাদ্দকৃত সার চাহিদা মেটাতে পারছে না। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু খুচরা বিক্রেতা চড়া দামে সার বিক্রি করছে। বিসিআইসি এবং বিএডিসির সারের ডিলারদের মাঝে বরাদ্দের বৈষম্য দূর হলেই এই সংকট কাটবে" –তিনি যোগ করেন।

তবে ডিলাররা নিজেদের ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছেন—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের নওগাঁ জেলা শাখার সভাপতি ও বিসিআইসি ডিলার মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, "এখানে ১২৬ জন বিসিআইসির ডিলারের প্রত্যেকের নিজস্ব দোকান রয়েছে। প্রতিটা ইউনিয়নে গুদামঘর রয়েছে। চাইলেও আমরা ইচ্ছেমতো সার বিক্রি করতে পারিনা। আমাদের সার উত্তোলন করে তাৎক্ষণিক কৃষি অফিসকে অবগত করতে হয়। কৃষি কর্মকর্তারা এরপর সরেজমিনে এসে মজুত দেখার পর— বিক্রির অনুমতি দিলে মূল্যতালিকা টানিয়ে তবেই বিক্রি করা যায়। তাই চাইলেও এখানে বেশি দামে সার বিক্রির সুযোগ আমাদের নেই।"

মিজানুর রহমান জানান, সরকার নির্ধারিত দাম কম হওয়া ও নাইট্রোজেনের পরিমাণের কারণে কৃষকদের ডিএপি সারের প্রতি ঝোঁক বেড়েছে। এতে সরবরাহ লাইনে চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

"ডিএপি সারে ২০ শতাংশ নাইট্রোজেন থাকে। ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি দাম ১,৩৫০ টাকা, যেখানে ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপির দাম ১,০৫০ টাকা। বিঘা প্রতি ২০ কেজি ডিএপি প্রয়োজন হলে— কৃষকেরা এখন ইউরিয়া না কিনে পুরো ৫০ কেজির এক বস্তা ডিএপি কিনে ফেলছেন। তারা বুঝতে পেরেছেন ডিএপিতেও নাইট্রোজেন আছে, তাই সস্তা হওয়ায় ডিএপি বেছে নিচ্ছেন। আমরা ডিএপি সারের চাহিদা মেটাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি," তিনি জানান।

এই সংকট সমাধানে ইউরিয়া এবং ডিএপি সারের মূল্য সমপর্যায়ে রাখার আহবান জানান তিনি।

সার সংকটের অভিযোগ শুধু নওগাঁতেই সীমাবদ্ধ নয়।

ইনফোগ্রাফিক: টিবিএস

বগুড়ার কৃষকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত হিসাবে প্রতি বস্তা ইউরিয়া সারের দাম ১,৩৫০ টাকা। কিন্তু। বস্তা হিসেবে নিতে গেলে ১,৪০০ টাকা দিতে হয়। খুচরা বাজারে আরও বেশি। টিএসপি সারের দাম ১,৩৫০ টাকার বদলে নেয়া হচ্ছে ১,৭০০-১,৮০০ টাকা পর্যন্ত। একইভাবে ১,০৫০ টাকা নির্ধারিত দামের ডিএপি সার বাজারে কিনতে ব্যয় হচ্ছে অন্তত ১,৬০০ টাকা।

মাঠ-পর্যায়ের কৃষকদের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা—কর্তৃপক্ষের সারের পর্যাপ্ত সরহরাহ থাকার দাবির সঙ্গে মিলছে না।

দুপচাঁচিয়ার উনহট গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমানের ভাষ্য, "বাড়তি টাকা দিলে সার আছে। না দিলে সার নেই। আমাদের এলাকায় ইউরিয়া কিছুটা পাওয়া যাচ্ছে। তবে ডিএপি ও এমওপি সার একবারেই মিলছে না।"

শাজাহানপুরে বিএডিসির ডিলার মেসার্স প্যারেন্টস ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল হালিমও কিছু সারের, বিশেষ করে ইউরিয়ার সরবরাহ সংকটের কথা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, "বিএডিসির ডিলাররা চাহিদামতো ইউরিয়া সার পায় না। চলতি আগস্ট মাসে উপজেলার প্রতিটি ডিলার টিএসপি ১২২ টন, এমওপি ১৬৪ টন এবং ডিএপি ৪৯ টন করে বরাদ্দ পেয়েছে। সার পেলে কৃষকদের দিতে তো কোনো সমস্যা নেই। সরবরাহ যা আছে সেগুলো বিতরণ করা হয় কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে।"

তবে সিলেট ও সুনামগঞ্জের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। সেখানকার ডিলাররা বলছেন, সেখানে বড় ধরনের কোনো সার সংকট নেই, তবে সরবরাহ শৃঙ্খলের ধীরগতির কারণে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছাতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ সদরের সার ডিলার প্রণয় পাল টিটুই জানান, স্থানীয় চাহিদা মেটানোর জন্য তাঁর বরাদ্দ যথেষ্ট। "আমরা পর্যাপ্ত সরবরাহ পেয়েছি, সার নিতে এসে কোনো কৃষক খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন না।"

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিলেটের কানাইঘাটের এক সার ডিলারও একইভাবে বলেন যে, মূল সমস্যা সারের ঘাটতি নয়, বরং বণ্টন ব্যবস্থার দুর্বলতা। তার মতে, "সারের কোনো সংকট নেই। তবে সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছু সমস্যা রয়েছে। ফলে কৃষকদের কাছে সার পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বেশি সময় লাগছে।"

সরবরাহ ও বন্টনে এই পার্থক্য কেন?

এই বৈষম্য বর্তমান সার বাজারের একটি মূল সংকটকে তুলে ধরছে। জেলা পর্যায়ে সরকারি বরাদ্দ হয়তো কাগজ-কলমে পর্যাপ্ত দেখাচ্ছে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় কৃষকরা কোনো সারের (বিশেষ করে ডিএপি) ঘাটতিতে পড়ছেন অথবা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

আমন মৌসুমে সারের সঠিক সময়ে প্রয়োগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই এই বণ্টনগত প্রতিবন্ধকতা সারের সরাসরি ঘাটতির মতোই ক্ষতিকর রূপ নিতে পারে।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সায়লা খন্দকার বলেন, "সরকারের তথ্যে ঘাটতি না দেখালেও মাঠ পর্যায়ে সারের সংকট সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশের সার বাজারে জাতীয় বা সামগ্রিক পর্যায়ে সরকারের বক্তব্য সঠিক হতে পারে, আবার একই সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে কৃষকেরা সংকটের মুখোমুখি হতে পারেন। জাতীয় মজুত থাকা মানেই স্থানীয় পর্যায়ে তা সহজলভ্য হওয়া নয়।"

আরও ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, "কোনো নির্দিষ্ট উপজেলায় সারের বরাদ্দ যদি ওই মৌসুমের প্রকৃত চাহিদার চেয়ে কম হয়, তবে জাতীয় মজুতের পরিসংখ্যান একজন সাধারণ কৃষকের কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে।"

তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, জাতীয়ভাবে যদি ১,০০০ টন ইউরিয়া মজুত থাকে, কিন্তু কোনো নির্দিষ্ট মৌসুমে একটি উপজেলার প্রয়োজন হয় ১০০ টন, আর তারা পায় মাত্র ৬০ টন। তাহলে সেই উপজেলা কার্যত সার সংকটে ভুগবে।

মজুতদারি ও কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধির কারণেও এই সমস্যা তীব্র হতে পারে। ফলে কাগজে-কলমে সরকারি মজুতে সার থাকলেও– তা কৃষকদের নাগালের বাইরেই থেকে যায়।

তাৎক্ষণিকভাবে আমন মৌসুম হয়তো সামলে নেওয়া সম্ভব হতে পারে, তবে সারের মূল পরীক্ষাটি সামনে।

ড. সায়লা খন্দকারের মতে, দেশের বার্ষিক সার চাহিদার প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই প্রয়োজন হয় বোরো চাষে। ফলে নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সময়টি বর্তমান আমন মৌসুমের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

আর এখানেই সরকারের দেওয়া আশ্বাসের প্রকৃত পরীক্ষা হবে।

তবে সরকার বলছে, তারা বোরো মৌসুমের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত। কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, "আমরা আগামী বোরো মৌসুমের চাহিদা মেটাতে পারব। আমরা সব সময়ই সরবরাহ শৃঙ্খল অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং সরবরাহ যেন নিরবচ্ছিন্ন থাকে তা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করছি।"

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে সংকট থাকলেও—বাংলাদেশ একাধিক দেশ থেকে সার এনে সেটার ওপর নির্ভরশীলতা কমাচ্ছে। "যদিও সৌদি আরব এবং সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যে খানিকটা সংকট রয়েছে, তবে আমরা একাধিক উৎস থেকে সার সংগ্রহ করি। মরক্কো, তিউনিসিয়া, কানাডা, চীন এবং অন্যান্য বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের কাছে সার আসছে। তাই আমাদের সরবরাহ শৃঙ্খল অটুট রয়েছে।"

ইতোমধ্যে সরকার কানাডা, রাশিয়া ও সৌদি আরব থেকে মোট ৫০৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টন এমওপি ও ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।

তবে ড. সায়লা খন্দকার মনে করেন, বোরো মৌসুমের আগে বাংলাদেশের আরও বড় আকারের সতর্কতামূলক সারের মজুত বা বাফার স্টক গড়ে তোলা উচিত।

তিনি বলেন, "স্থানীয় উৎপাদনের বর্তমান সীমাবদ্ধতা বিবেচনা করে, বোরো মৌসুমের সর্বোচ্চ চাহিদার (নভেম্বর-মার্চ) আগেই বাংলাদেশের আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ লাখ টন সার আমদানির মাধ্যমে পূর্বসতর্কতামূলক বাফার হিসেবে মজুত রাখা উচিত।"

তিনি বার্ষিক সারের চাহিদা প্রায় ৬৬ লাখ টন হিসেবে প্রাক্কলন করেন, যার বিপরীতে সম্প্রতি দেশে উৎপাদন হয়েছে মাত্র ১১ লাখ টনের মতো। তিনি জানান, মোট সারের ৭০ শতাংশেরই ব্যবহার হয় বোরো-রবি মৌসুমে, যেকারণে সময়মতো আমদানি নিশ্চিত করাটা খুবই জরুরি।

দেশজ উৎপাদনে সংকট

আমদানির ওপর এই অতি-নির্ভরশীলতাই বর্তমান সংকটের অন্যতম প্রধান কাঠামোগত দুর্বলতা।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৬৬ লাখ টন চাহিদার বিপরীতে সাতটি সরকারি সার কারখানায় উৎপাদিত হয়েছে মাত্র ১১.০৬ লাখ টন। ফলে চাহিদার ৭০ শতাংশের বেশি মেটাতে হয়েছে আমদানির মাধ্যমে। গ্যাস সংকট, পুরোনো যন্ত্রপাতি এবং কাঁচামালের স্বল্পতার কারণে এই সাতটি কারখানার মধ্যে ছয়টিই বিভিন্ন সময়ে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) সাবেক সদস্য-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খানের মতে, সারের চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে আমদানিনির্ভর হয়ে পড়ে—অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ব্যবস্থাকেই ধসে পড়তে দিয়েছে।

তিনি বলেন, "একসময় আমরা দেশের চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ সার নিজেরাই উৎপাদন করতাম। এখন ইউরিয়ার ক্ষেত্রে আমরা প্রায় ৮০ শতাংশ আমদানি করি এবং মাত্র ২০ শতাংশ দেশে উৎপাদন করি—আর এই পরিমাণ উৎপাদনও অনেক সময় সম্ভব হয় না।"

সরকারের ভাষ্য

কৃষি কর্মকর্তারা বারবার দাবি করে আসছেন, আমন মৌসুমের জন্য জাতীয়ভাবে পর্যাপ্ত সারের মজুত রয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, এবছরে সারের মজুত গত বছরের চেয়ে বেশি। কৃত্রিম সংকটের খবরগুলোকে তিনি "পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের" অংশ হিসেবেও বর্ণনা করেন।

আরেকটি প্রধান বিষয় হলো মাঠ পর্যায়ে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানো নিশ্চিত করা। অনেক সময় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ডিলারদের বিভিন্ন অনিয়মের খবর ওঠে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সরকার নিয়মিতভাবে এসব বিষয়ে নজরদারি চালাচ্ছে।

সার সংকটের ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "হ্যাঁ, আমরা বর্তমানে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়া ও সারের ঘাটতি নিয়ে কিছু অপ্রত্যাশিত খবর দেখতে পাচ্ছি। আমরা প্রতি মাস শুরুর আগেই ডিলারদের সার বরাদ্দ দিই। তবে বরাদ্দ পাওয়ার পরও— ডিলাররা অনেক সময় সময়মতো বরাদ্দকৃত সার উত্তোলন বা মজুত করতে পারেন না।"

"এই কারণেই আমরা এখন প্রতিটি ডিলার শপে সারের মজুত নিয়মিতভাবে সরেজমিনে যাচাই করছি এবং ডিলাররা প্রকৃতপক্ষে বরাদ্দ করা সার তুলছেন কি না তা খতিয়ে দেখছি। প্রতিটি জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এবং জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এই মনিটরিং নিশ্চিত করা হচ্ছে," তিনি যোগ করেন।
 

 

Related Topics

টপ নিউজ

সার সংকট / কৃষি উৎপাদন

Comments

While most comments will be posted if they are on-topic and not abusive, moderation decisions are subjective. Published comments are readers’ own views and The Business Standard does not endorse any of the readers’ comments.

MOST VIEWED

  • পাম বাগান থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যেতে দেখা যায় পুলিশকে, যা জং মি-রানের বলে ধারণা করা হচ্ছে।  ছবি: ইওনহাপ নিউজ এজেন্সি/রয়টার্স
    জেজু দ্বীপে একের পর এক নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য
  • সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ। ছবি: রয়টার্স
    ন্যাটোতে হামলা না চালাতে পুতিনকে সতর্ক করতে গোপনে মস্কো সফর করেন সিআইএ প্রধান
  • রোনান ও ডেকলান সুলিভান এ বছর বাংলাদেশের হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ছবি: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সৌজন্যে
    যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে বাংলাদেশের ফুটবলে আলো ছড়াচ্ছেন সুলিভান ভাইয়েরা, স্বপ্ন বিশ্বকাপ খেলার
  • ছবি: রয়টার্স
    নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কেন এই ভয়াবহ বন্যা?
  • ছবি: সংগৃহীত
    দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দুই পাঁচতারকা হোটেলে মিলল পচা খাবার-তেলাপোকা
  • ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
    বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৪১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেবে ১৭ ব্যাংক

Related News

  • দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই—সংকট যতটা বাস্তব, তার চেয়ে বেশি রটানো হচ্ছে: ত্রাণমন্ত্রী
  • ডুবছে খেত, পচছে ফসল: হাওরের ৪৭ হাজার হেক্টর জমির ধানে লোকসান গুনছেন কৃষকরা
  • আল জাজিরা প্রতিবেদন: হাজার মাইল দূরের যুদ্ধের প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ার কৃষিতে
  • মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে সার আমদানিতে বিঘ্ন, বিকল্প উৎস খুঁজছে বাংলাদেশ
  • ইরান যুদ্ধকে ঘিরে বিশ্ববাজারে তীব্র সার সংকটের আশঙ্কা

Most Read

1
পাম বাগান থেকে একটি লাশ উদ্ধার করে নিয়ে যেতে দেখা যায় পুলিশকে, যা জং মি-রানের বলে ধারণা করা হচ্ছে।  ছবি: ইওনহাপ নিউজ এজেন্সি/রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

জেজু দ্বীপে একের পর এক নিখোঁজদের মরদেহ উদ্ধার, মৃত্যু ঘিরে রহস্য

2
সিআইএর প্রধান জন র‍্যাটক্লিফ। ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

ন্যাটোতে হামলা না চালাতে পুতিনকে সতর্ক করতে গোপনে মস্কো সফর করেন সিআইএ প্রধান

3
রোনান ও ডেকলান সুলিভান এ বছর বাংলাদেশের হয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছেন। ছবি: বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সৌজন্যে
খেলা

যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসে বাংলাদেশের ফুটবলে আলো ছড়াচ্ছেন সুলিভান ভাইয়েরা, স্বপ্ন বিশ্বকাপ খেলার

4
ছবি: রয়টার্স
আন্তর্জাতিক

নেপাল-তিব্বত সীমান্তে কেন এই ভয়াবহ বন্যা?

5
ছবি: সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক

দিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনের দুই পাঁচতারকা হোটেলে মিলল পচা খাবার-তেলাপোকা

6
ইলাস্ট্রেশন: টিবিএস
অর্থনীতি

বন্ধ কলকারখানা চালু করতে ৪১ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা দেবে ১৭ ব্যাংক

EMAIL US
contact@tbsnews.net
FOLLOW US
WHATSAPP
+880 1847416158
The Business Standard
  • About Us
  • Contact us
  • Sitemap
  • Privacy Policy
  • Comment Policy
Copyright © 2026
The Business Standard All rights reserved
Technical Partner: RSI Lab

Contact Us

The Business Standard

Main Office -4/A, Eskaton Garden, Dhaka- 1000

Phone: +8801847 416158 - 59

Send Opinion articles to - oped.tbs@gmail.com

For advertisement- sales@tbsnews.net