শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধান ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ
ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের আবেদন ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একই সঙ্গে যুক্তরাজ্যে থাকা ২৫ মিলিয়ন ডলার দেশে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) ব্যর্থতার জন্য কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
এ সংক্রান্ত রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এ এইচ এম রেজওয়ানুল সাঈদ যুক্তরাজ্যে ২৫ মিলিয়ন ডলার পাচারের ঘটনায় জাহাজ ভাঙা ব্যবসায়ী ও ইস্টার্ন ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেন।
রিটে দুর্নীতি দমন কমিশন ও এর চেয়ারম্যান, বিএফআইইউ প্রধান, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর পাচার করা সম্পদের অনুসন্ধানকালে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ) দেশটিতে শওকত আলী চৌধুরীর নামে থাকা ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সন্ধান পায়। ওই অর্থের বৈধ উৎস সম্পর্কে এনসিএকে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধান চলাকালেই ওই অর্থ দুবাইয়ের মাশরেক ব্যাংক ও এমিরেটস এনবিডিতে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ সময় যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ সন্দেহজনক লেনদেনটি সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে বিএফআইইউকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।
যুক্তরাজ্য জানায়, বাংলাদেশ থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ফ্রিজিং অর্ডার বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) অনুরোধ না এলে লেনদেনটি আর আটকে রাখা সম্ভব হবে না। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিএফআইইউ কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়ায় ওই অর্থ যুক্তরাজ্য থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যায় এবং বাংলাদেশ তা ফেরত আনার সুযোগ স্থায়ীভাবে হারায় বলে রিটে দাবি করা হয়।
রিটে আরও বলা হয়, পরে ওই ২৫ মিলিয়ন ডলার আয়কর রিটার্নে অপ্রদর্শিত বিদেশি সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ জন্য এনবিআরের বৃহৎ করদাতা ইউনিটে (এলটিইউ) প্রায় ১৩৬ কোটি টাকা আয়কর পরিশোধ করা হয়। একই সঙ্গে ৩০৬ কোটি ৮৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হলেও তা এখনো আদায় হয়নি।
আবেদনকারীর যুক্তি, শুধু কর বা জরিমানা আরোপ করলেই অর্থ পাচারের মতো গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের দায় শেষ হয়ে যায় না। অর্থের উৎস কী এবং কীভাবে তা বিদেশে পাচার হয়েছে, সে বিষয়ে দুদক বা অন্য কোনো সংস্থা অনুসন্ধান করেনি।
রিটে দাবি করা হয়, এনসিএর তথ্য বিএফআইইউতে পৌঁছানোর পরই এলটিইউতে ওই সম্পদ প্রকাশ করা হয়। তাই ফৌজদারি দায় এড়ানোর অসৎ উদ্দেশ্যে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন আবেদনকারী।
রিট করার আগে গত ১১ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। পরে দুদক ও বিএফআইইউতে পৃথক অভিযোগও জমা দেওয়া হয়। কিন্তু সংস্থাগুলো কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় রিটটি করা হয়।
রিটে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(১) ও ২৩ ধারা এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২০ ও ২৭(১) ধারার উল্লেখ করে বলা হয়, এনসিএর সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পরও বিএফআইইউ ও দুদকের নিষ্ক্রিয়তা তাদের আইনি দায়িত্বের লঙ্ঘন।
এ কারণে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের পাশাপাশি সময়মতো ব্যবস্থা না নিয়ে দেশের আর্থিক ক্ষতি করার দায়ে বিএফআইইউর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে রিটে।
