গুম-খুনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের জন্য নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ
গুম, খুন, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের কল্যাণে নতুন একটি অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহায়তার বিষয়ও দেখবে প্রস্তাবিত অধিদপ্তর।
আজ রোববার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খানের সভাপতিত্বে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ বিষয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সভায় প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ও মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে এবং তাদের জন্য 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান অধিদপ্তর' গঠন করা হয়েছে। একইভাবে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে গুম, হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন, বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার ব্যক্তিদের ত্যাগেরও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি বলেন, অনেক মানুষ গুম হয়েছেন, হত্যার শিকার হয়েছেন, দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। অনেকে বছরের পর বছর মিথ্যা মামলায় কারাভোগ করে আর্থিকভাবে নিঃস্ব হয়েছেন। তাদের ও তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
সভায় আলোচনায় ভুক্তভোগীদের অধিকার ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়নের বিষয়টিও উঠে আসে। জাতিসংঘের 'বেসিক প্রিন্সিপলস অ্যান্ড গাইডলাইনস অন দ্য রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রিপারেশন' এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
এজন্য তিনটি বিষয়ে প্রাথমিকভাবে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এগুলো হলো—মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে নতুন অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা, ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়ন এবং রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬ সংশোধন করে এ-সংক্রান্ত দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের কার্যপরিধিতে যুক্ত করা।
প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম মূল চেতনা ছিল মানুষের স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করা। তার অভিযোগ, ২০০৯ সালের পর ভোটাধিকার হরণ, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এসব মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ ধরনের ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের জন্য রাষ্ট্রের দায়িত্ব থেকেই নতুন অধিদপ্তর ও আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্য, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, শিক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ, স্বাস্থ্যসেবা, যুব ও ক্রীড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় এবং বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
