‘বন্ধুর কপালে গুলি লেগে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়’: ট্রাইব্যুনালে জয়-পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষী
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যার উস্কানি দেওয়ার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলকের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন নরসিংদী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র মো. আব্দুল নাসির উদ্দিন।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ ৮ম সাক্ষী হিসেবে তিনি এই জবানবন্দি প্রদান করেন। মামলায় সজীব ওয়াজেদ জয় বর্তমানে পলাতক থাকলেও জুনাইদ আহ্মেদ পলক গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন।
জবানবন্দিতে নাসির উদ্দিন বলেন, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিহত হওয়ার পর থেকে তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলনের এক পর্যায়ে ১৮ জুলাই থেকে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
৫ আগস্টের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, 'সেদিন দুপুর ১২টার দিকে আমি এবং আমার বন্ধু সামিদসহ ৪-৫ জন মিলে টঙ্গীর চেরাগ আলী থেকে 'লং মার্চ টু ঢাকা'র উদ্দেশ্যে বের হই। দুপুর ২টার দিকে আমরা উত্তরার বিএনএস এলাকায় পৌঁছাই। আনুমানিক আড়াইটার দিকে উত্তরা পূর্ব থানার দিক থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে শুরু করলে আমরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যাই।'
নাসির জানান, হামলার পর তিনি বন্ধু সামিদকে খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বারবার কল দিলেও সামিদ ফোন ধরছিল না। পরে বিকেল ৫টার দিকে একটি অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে তাকে জানানো হয় যে সামিদ উত্তরা কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আছে।
হাসপাতালে যাওয়ার পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে এই সাক্ষী বলেন, 'অনেক খোঁজাখুঁজির পর আইসিইউতে সামিদকে রক্তাক্ত অবস্থায় খুঁজে পাই। তার কপালে গুলি লেগে মাথার পেছন দিক দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল। তখন সামিদের বাবাকে ফোন করি। তিনি উত্তরার বিজয় মিছিলে ছিলেন। হাসপাতালে এসে ছেলেকে মৃত অবস্থায় পান তিনি।'
পরবর্তীতে টঙ্গীর চেরাগ আলীতে প্রথম জানাজা শেষে ওই রাতেই অ্যাম্বুলেন্সযোগে সামিদের মরদেহ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় তার গ্রামে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দাফন সম্পন্ন হয়।
নাসির উদ্দিন তার জবানবন্দিতে আরও উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট সকালে ইন্টারনেট ছিল না এবং শেখ হাসিনার নির্দেশে সেদিন উত্তরা এলাকায় আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহতদের মধ্যে সামিদ ছাড়াও সানজিদ, জসিম ও সোহেল নামে চারজনের নাম উল্লেখ করেন তিনি।
সাক্ষী দাবি করেন, শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের নির্দেশে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়েছিলেন। জুলাই মাসে দফায় দফায় ইন্টারনেট বন্ধ করার মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও গুমের তথ্য বিশ্ববাসী যেন জানতে না পারে এবং আন্দোলনকারীরা যেন নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি দাবি করেন সাক্ষী নাসির উদ্দিন।
