তৃণমূলের নারীদের ক্ষমতায়ন ও সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়াতে হবে: শামা ওবায়েদ
তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের ক্ষমতায়ন এবং সরাসরি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, 'নারীদের ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করতে হলে তৃণমূল থেকেই তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। দেশের ৫০ শতাংশ নারীকে পিছিয়ে রেখে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মানসিকতা ও নীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি।'
শনিবার (২২ আগস্ট) ঢাকার একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত 'বাংলাদেশে রাজনৈতিক নেতৃত্বে তরুণ নারীদের ক্ষমতায়ন' শীর্ষক সমাপনী সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
জার্মানভিত্তিক রাজনৈতিক ফাউন্ডেশন ফ্রেডরিখ এবার্ট স্টিফটুং (এফইএস)-এর সহযোগিতায় আয়োজিত 'পলিটিক্স ল্যাব' কর্মসূচির চারটি কর্মশালার ধারাবাহিকতায় এ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
শামা ওবায়েদ বলেন, 'শিক্ষা নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ায়। তবে রাজনীতি ও সমাজে অনলাইন হয়রানিসহ নানা বাধা এখনো রয়েছে। এসব বাধা মোকাবিলায় রাষ্ট্র ও সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। নারীদের সহায়তা করাকে নীতিগত বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।'
তিনি বলেন, 'নারীদের রাজনৈতিক নেতৃত্বে এগিয়ে আসার পথ কখনো সহজ নয়। যত বাধাই থাকুক, মেধা ও আত্মসম্মান নিয়ে নারীদের এগিয়ে যেতে হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাজনীতির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।'
সংলাপে সিজিএসের প্রেসিডেন্ট জিল্লুর রহমান বলেন, 'প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির জন্য শুধু নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলেই হবে না; সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও সম্পদ ব্যবহারে তাদের কার্যকর ক্ষমতাও নিশ্চিত করতে হবে। নারীরা যাতে সমাজের সব ক্ষেত্রে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে পারেন, সে জন্য মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।'
অনুষ্ঠানে জহরত আদিব চৌধুরী এমপি, সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার, এবি পার্টির আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার নাসরিন সুলতানা মিলি, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন, এফইএসের বাংলাদেশ রেসিডেন্ট রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. ফেলিক্স গ্রেডেস এবং সিজিএসের নির্বাহী পরিচালক পারভেজ করিম আব্বাসী বক্তব্য দেন।
সংলাপে বক্তারা নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে দলীয় কাঠামোতে পরিবর্তন, অর্থ ও পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতি কমানো, সাইবার হয়রানি প্রতিরোধ এবং নারীর আর্থিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠান শেষে 'পলিটিক্স ল্যাব'-এর কর্মশালায় অংশ নেওয়া তরুণ নারী রাজনীতিকদের মধ্যে সনদ বিতরণ করা হয়।
