তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বা আগে কোনো অগ্রগতি হয়নি: শামা ওবায়েদ
তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বা ফিজিবিলিটি স্টাডি যেখানে থেমে ছিল, সেখান থেকেই আবার শুরু হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিংবা তার আগে এই প্রকল্পের সমীক্ষায় কোনো অগ্রগতি হয়নি।
বুধবার (১ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
শামা ওবায়েদ বলেন, 'সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরুর সময় যে অবস্থায় ছিল, বর্তমানেও ঠিক সেই অবস্থাতেই আছে। এতে কোনো অগ্রগতি হয়নি। এটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়েও করা হয়নি, তার আগের মেয়াদেও হয়নি।'
তিনি জানান, এই প্রকল্পের প্রয়োজনীয় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য কারিগরি সহায়তা দিতে সম্মত হয়েছে চীন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'শুধু তিস্তা নয়, সারা দেশেই নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চীন সেই জায়গাগুলোতেও আমাদের সহায়তা ও সমর্থন দিতে চায়।'
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ ও চীন তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা প্রকল্পের যৌথ সম্ভাব্যতা যাচাই কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে একমত হয়েছে। যদি এই সমীক্ষায় প্রকল্পটির যৌক্তিকতা প্রমাণিত হয়, তবে এর বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত সহায়তা দেবে বেইজিং। চীন জানিয়েছে, তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী এই প্রকল্পে এবং বাংলাদেশে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করবে।
দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা অনুযায়ী—সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদ পরিকল্পনা, জলতাত্ত্বিক পূর্বাভাস, বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও দুর্যোগ প্রশমন, নদী ড্রেজিং এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্ক সবসময়ই চমৎকার। আমাদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে চীন বরাবরই শক্তিশালী অংশীদার। আগামী দিনে তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ আরও বাড়াবে বলে আমরা আশাবাদী।'
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সরকার বর্তমানে চীন সরকারের দেওয়া বিভিন্ন প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। এর মধ্যে 'টু-প্লাস-টু' বৈঠক এবং 'বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডোর' সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলো গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।
পরিশেষে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হলো জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা এবং তাদের চাহিদাকেই সবার আগে প্রাধান্য দেওয়া।
