ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলা: হাইকোর্টে শুনানি শেষ, রায় ২৪ আগস্ট
ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের আপিলের ওপর হাইকোর্টে শুনানি শেষ হয়েছে। এ বিষয়ে রায়ের জন্য আগামী ২৪ আগস্ট (সোমবার) দিন ধার্য করেছেন আদালত।
আজ বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে রায়ের জন্য এই দিন নির্ধারণ করেন।
২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলায় ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্সের নথিপত্র হাইকোর্টে পৌঁছায়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতির নির্দেশে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার পেপারবুক (সব নথি) ছাপানোর কাজ শেষ করা হয় এবং শুনানির জন্য হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, বিচারিক আদালত কোনো আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিলে সেই রায় কার্যকরের আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়, যা 'ডেথ রেফারেন্স' হিসেবে পরিচিত। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা খালাস চেয়ে জেল আপিল ও ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন। এই উভয় বিষয়ের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ আদালত রায়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করলেন।
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ এই মামলার রায় ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে ১৬ আসামির প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। মামলাটিতে মাত্র ৬১ কার্যদিবসে ৮৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করা হয়েছিল।
ঘটনার সূত্রপাত হয় একই বছরের ২৭ মার্চ। সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে নুসরাতের মা শিরীন আখতার মামলা করলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর অধ্যক্ষের অনুগত কয়েকজন ক্যাডার তাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার চেষ্টা চালায়। ৩ এপ্রিল কারাগারে সিরাজের সঙ্গে পরামর্শ করার পর ৪ এপ্রিল মাদ্রাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৬ এপ্রিল নুসরাত আলিম পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসায় গেলে তাকে কৌশলে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় নুসরাতকে প্রথমে সোনাগাজী ও ফেনীতে এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা (৫৭), নূর উদ্দিন (২০), শাহাদাত হোসেন শামীম (২০), কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম ওরফে মোকসুদ কাউন্সিলর (৫০), সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের (২১), জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন (১৯), হাফেজ আব্দুল কাদের (২৫), আবছার উদ্দিন (৩৩), কামরুন নাহার মনি (১৯), উম্মে সুলতানা ওরফে পপি (১৯), আব্দুর রহিম শরীফ (২০), ইফতেখার উদ্দিন রানা (২২), ইমরান হোসেন ওরফে মামুন (২২), সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মাদ্রাসার সাবেক সহ-সভাপতি রুহুল আমিন (৫৫), মহিউদ্দিন শাকিল (২০) ও মোহাম্মদ শামীম (২০)।
