বাংলাদেশের সঙ্গে পানি-সংক্রান্ত বিষয় দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থায় সমাধান হবে: জয়সওয়াল
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদীর কথা উল্লেখ করে ভারত জানিয়েছে, দু'দেশের নদী ও পানি সম্পর্কিত সব ধরনের সহযোগিতা ও আলোচনা যৌথ নদী কমিশনসহ (জেআরসি) বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমেই হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালের কাছে তিস্তা প্রকল্পে চীনের বিনিয়োগ পাওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের উদ্যোগ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি এসব কথা জানান।
জয়সওয়াল বলেন, 'বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহু নদী রয়েছে, সুনির্দিষ্টভাবে বলতে গেলে এই সংখ্যা ৫৪টি। দুই দেশের মধ্যে পানি-সংক্রান্ত যেকোনো সহযোগিতা বা আলোচনা করতে হলে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা দ্বিপক্ষীয় যৌথ নদী ব্যবস্থাপনা বা যৌথ নদী কমিশনের পাশাপাশি বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক কাঠামোর মাধ্যমেই তা করতে হবে।'
সম্প্রতি এক সেমিনারে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, 'দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা চুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কোনো অবনতি চায় না ঢাকা। তবে নিজ স্বার্থের পাশাপাশি দিল্লির উচিত বাংলাদেশের স্বার্থের দিকেও খেয়াল রাখা।'
মন্ত্রী বলেন, 'প্রতিবেশী দেশটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। তাদের যেমন নিজেদের স্বার্থ রয়েছে, তেমনি আমাদেরও স্বার্থ রয়েছে—এ বিষয়টি তাদের ভাবতে হবে। একজন বন্ধু আরেক বন্ধুর স্বার্থ রক্ষা করবে। তারা আমাদের স্বার্থের প্রতি নজর দেবে। তাদের সঙ্গে আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের অবনতি হোক, আমরা কখনোই তা চাই না।'
সম্প্রতি প্রকাশিত জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) জিহাদি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সংক্রান্ত মনিটরিং টিমের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জয়সওয়াল বলেন, 'সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা ইস্যু দু'দেশেরই অভিন্ন উদ্বেগের বিষয়।'
তিনি বলেন, 'দেখুন, সন্ত্রাসবাদ ও নিরাপত্তা এমন এক অভিন্ন সমস্যা যা সবাইকে উদ্বিগ্ন করে। আমরা একসঙ্গে এই বৈশ্বিক সমস্যার বিরুদ্ধে লড়াই করতে চাই।'
জয়সওয়াল আরও বলেন, 'আপনারা সম্প্রতি প্রকাশিত মনিটরিং কমিটির রিপোর্টটি দেখেছেন। তারা বিশেষ করে দিল্লির লালকেল্লা সন্ত্রাসী হামলার নেপথ্যে থাকা দলটির পেছনের লোকজনের কথাও উল্লেখ করেছে।'
উল্লেখ্য, ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড লেভান্ট (আইএস বা দায়েশ), আল-কায়েদা ও তাদের সহযোগীদের নিয়ে জাতিসংঘ গঠিত পর্যবেক্ষণ দলের (ইউএনএসসির) ৩৮তম প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত সর্বশেষ এই প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৯ জুন পর্যন্ত সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৩০ পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনের ১০১ নম্বর অনুচ্ছেদে মাত্র একবার বাংলাদেশ প্রসঙ্গ রয়েছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমর্থকদের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্কের দিকে ইঙ্গিত করে এটিকে অপপ্রচার বলে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'এটি হতে পারে… কারণ আমি মনে করি, আমি আপনাদের সেদিন বলেছিলাম যে ফ্যাসিবাদী সরকার (সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার) এটি খুব ভালোভাবেই করতে পারে এবং এটি তাদের অপপ্রচারও হতে পারে। তাই বিষয়টি আমাদের খতিয়ে দেখতে হবে। এ বিষয়ে মন্তব্য করার মতো কোনো তথ্য আমার কাছে বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। অবশ্যই, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে তিনি আরও জানান, আগামী মাসে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের দায়িত্ব নিতে যাওয়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জাতিসংঘে বিষয়টি তুলবেন।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
বাংলাদেশ-ভারতের ভৌগোলিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে ভারতের পররাষ্ট্র মুখপাত্র বলেন, 'নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ ও আস্থার ভিত্তিতে ঢাকার সঙ্গে একটি 'ইতিবাচক, গঠনমূলক ও অনাগত ভবিষ্যৎমুখী' সম্পর্ক চায়।'
জয়সওয়াল বলেন, 'সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন নিয়ে আমাদের অবস্থান পুনরায় বলার প্রয়োজন নেই। প্রত্যর্পণের বিষয়ে আমাদের অবস্থান বরাবরই একই ছিল, আর সে বিষয়ে আপনারা ভালোভাবেই অবগত আছেন—এই অনুরোধগুলো আমাদের প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।'
বাংলাদেশের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে জয়সওয়াল বলেন, 'বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা অনুযায়ী এ সহযোগিতা অব্যাহত রয়েছে।' তিনি আরও বলেন, 'অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহের জন্য নতুন কোনো অনুরোধ করা হলে তা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে, কারণ ভারতকে প্রথমে নিজেদের চাহিদা পূরণ করতে হবে।'
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে কোনো নতুন কোনো আপডেট দিতে পারেনি বংলাদেশ ও ভারত।
শামা ওবায়েদ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে আমার কাছে কোনো আপডেট নেই। কোনো দেশে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয় চূড়ান্ত হলে আপনারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেই জানতে পারবেন।'
এদিকে জয়সওয়াল বলেন, এ বিষয়ে আমার কাছে কোনো নতুন তথ্য নেই। যখন আমার কাছে কোনো আপডেট আসবে, আমি অবশ্যই আপনাদের জানাব।'
