ঝোড়ো হাওয়ায় কক্সবাজারের নাজিরারটেক শুঁটকি মহালে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি
মধ্যরাতে সৃষ্ট ঝোড়ো হাওয়ার আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে দেশের অন্যতম শুঁটকি মহাল কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক এলাকা। মাত্র কয়েক মিনিটের ঝোড়ো হাওয়ার তাণ্ডবে শুঁটকি মহালের অন্তত ২০টি উৎপাদন ঘর সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে মাচায় শুকানোর জন্য রাখা এবং গুদামে সংরক্ষিত বিপুল পরিমাণ কাঁচা ও প্রক্রিয়াজাত মাছ বাতাসে উড়ে গিয়ে এবং বৃষ্টির পানিতে ভিজে পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত মধ্যরাতে এই ঝোড়ো হাওয়া আঘাত হানে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার আবহাওয়া অধিদপ্তরের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আবুল হান্নান।
তিনি জানান, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর প্রভাবে কক্সবাজারসহ দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত জারি রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে অবস্থানরত মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সমুদ্রে বিচরণ না করার জন্য বলা হয়েছে। নিম্নচাপের প্রভাবে কক্সবাজারসহ উপকূলীয় এলাকায় আরও বৃষ্টিপাত ও দমকা হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে।
তিনি বলেন, 'সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে গত কয়েকদিন বৃষ্টি হচ্ছে। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজারে ১১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর কারণে কোথাও কোথাও ৪০-৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বা দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। সোমবার মধ্যরাতে নাজিরারটেকে সৃষ্ট বাতাসটিও ঝোড়ো হাওয়া। বৃষ্টির কারণে আগে থেকে ওই এলাকার মাটি নরম হওয়ায় ঝোড়ো হওয়ার কারণে বেশ কিছু ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।'
নাজিরারটেকের মহাল মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, সোমবার দিবাগত গভীর রাতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে এই ভয়াবহ দুর্যোগ আঘাত হানে। আকস্মিক এই ঝোড়ো হাওয়ায় শুঁটকি পল্লীর বিপুল পরিমাণ শুঁটকি মাছ নষ্ট হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা।
নাজিরারটেক মৎস্য ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান জানান, রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি ছিল। মধ্যরাতে হঠাৎ ভারি বৃষ্টি আর বাতাসের তীব্রতা দেখতে পান স্থানীয়রা। এমন সময় তারা দেখতে পান, বাতাসের তীব্রতায় হঠাৎ করে শুঁটকি পল্লীর আড়তের চালা উড়ে যাচ্ছে। কোনো কোনো ঘরের চালা এবং মাচায় থাকা মাছও বাতাসে উড়ে যায়।
মহাল মালিক নুর হোসেন জানান, অনেকের মনে হয়েছে পাশে বিমানবন্দর থাকায় বিমান জরুরি ভিত্তিতে কোনো বিমান ওঠানামা করছে। কিন্তু ভোরের আলো ফুটতেই দেখি, শুকানোর জন্য পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা ছুরি শুঁটকি, লইট্যা, ফাইস্যা, চইক্কা ফাইস্যা, পোপাসহ বিভিন্ন মাছ ও ঘরের চালা উড়ে গিয়ে পড়ে আছে আধা কিলোমিটার দূরে। মাছগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে বিভিন্ন জায়গায়।
ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, ঝড়ের আঘাতে ১৫-২০টি ঘর ও দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
প্রতি মৌসুমে নাজিরারটেক শুঁটকি মহালে মাছের গুঁড়াসহ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন বিভিন্ন জাতের শুঁটকি উৎপাদন করা হয়। যার বাজারমূল্য প্রায় দুইশ কোটি টাকা। উৎপাদিত এসব শুঁটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। কক্সবাজার শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের পাশ ঘেঁষে প্রায় ১শ একর বালুচরজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে নাজিরারটেক শুঁটকি মহাল।
