সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ
২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে চালানো অভিযান এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে গুলিবর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আজিজ আহমেদ ওই সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।
ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশ সদর দপ্তরের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)-র দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত আইজিপির কাছে পাঠানো হয়েছে। ইন্টারপোলের বিধিবিধান অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এই চিঠিতে অনুরোধ জানানো হয়।
গতকাল সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে চিফ প্রসিকিউটর জানান, শাপলা চত্বর মামলায় পলাতক কোনো আসামিকে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের সহযোগিতা নেওয়ার এটিই প্রথম উদ্যোগ। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন জানতে পেরেছে আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন। তবে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও জানান, বিদেশে থাকা এই মামলার অন্য পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধেও পর্যায়ক্রমে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশের ওপর চালানো অভিযান এবং পরদিন সিদ্ধিরগঞ্জে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে এই মামলাটি করা হয়। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ওই সময় চার স্থানে মোট ৫৮ জন নিহত হন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২ জন, নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জনের মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
চলতি বছরের ২৭ জুলাই এই অভিযানের দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসান মাহমুদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মৃণাল কান্তি দাস, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার প্রমুখ।
এছাড়া অভিযোগপত্রে সাবেক পুলিশ প্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার, এ কে এম শহীদুল হক, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সাবেক পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তার নাম রয়েছে। সাংবাদিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাবেক প্রধান বার্তা সম্পাদক ফারজানা রূপা।
এদিকে, গত ১৬ আগস্ট বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ বেঞ্চ আগামী ৩ সেপ্টেম্বর হাসানুল হক ইনু ও ড. আবদুর রাজ্জাককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে পলাতক ৩১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল সংক্রান্ত প্রতিবেদন ওই দিনই জমা দিতে বলা হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে দীপু মনি, শামসুল হক টুকু, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান এবং মোজাম্মেল হক বাবুসহ ৯ জন গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। ৩০ জন পলাতক আসামির বিরুদ্ধে এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বহাল রয়েছে।
