শুধু শাপলা হত্যাকাণ্ড নয়, বেনজীরের বিরুদ্ধে আইসিটিতে ১০ মামলার তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড নন, তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) অন্তত ১০টি মামলায় তদন্ত চলছে এবং প্রতিটি ঘটনার সঙ্গেই তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
সোমবার (১৫ জুন) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব তথ্য জানান। এর আগে গত রবিবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে জানিয়েছিলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ দুবাইতে গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
বেনজীর আহমেদের ক্ষমতার দাপট ও অপরাধের ধরণ সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, "বেনজীর আহমেদ শুধু শাপলা চত্বরের মাস্টারমাইন্ড নন। আমরা এক সময় জানতাম তিনি সারা বাংলাদেশকে চালাচ্ছেন। তার উপরে কাউকে মানুষ মনে হতো না। তার যে দম্ভোক্তি, তার যে বডি ল্যাঙ্গুয়েজ—সব কিছু মিলিয়ে তখন বাংলাদেশে কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন বেনজীর আহমেদ।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এই পরিচিতির কারণ হলো হেন কোনো দুষ্কর্ম নেই যেটা তিনি তার কর্মজীবনে করেন নাই। আমরা ধারণা করি, আওয়ামী লীগের শেষ আমলে তাদের কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদেরই কোনো কুশীলব তার এসব কুকীর্তি প্রকাশ করে দেয়।"
ট্রাইব্যুনালে চলমান তদন্তের বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, "বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে আমাদের এখানে ১০টির মতো মামলায় তদন্ত চলছে। প্রত্যেকটার সঙ্গেই তার কানেকশন আছে। র্যাবে যখন ছিলেন তখনকার গুমের মামলার বিচার চলছে। শাপলা চত্বরের মামলায় তিনি অন্যতম কুশীলব ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধে সেই তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে। কক্সবাজারের কাউন্সিলর একরাম হত্যাকাণ্ডের সাথে তার সরাসরি সম্পর্ক ছিল। তিনি পুলিশ কমিশনার হিসেবে অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, র্যাবের প্রধান হিসেবেও অসংখ্য হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত। যখন আইজিপি ছিলেন তখন অসংখ্য অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বিতর্কিত নির্বাচনের সময় তার বিতর্কিত ভূমিকা ছিল।"
সাবেক এই পুলিশ প্রধানকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে চিফ প্রসিকিউটর জানান, "যদি তাকে বাংলাদেশে আনা হয়, তবে এই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেও তাকে হাজির করা হবে। যেসব মামলার বিচার চলছে সেগুলোতে তাকে উপস্থিত করা হবে এবং তদন্তাধীন মামলাগুলোতে তাকে রিমান্ডে নিয়ে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।"
