২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টি, আবারও জলাবদ্ধতা চট্টগ্রামে
গত ২৪ ঘণ্টায় ১৬৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতে আবারও জলাবদ্ধতায় ডুবেছে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে নগরের নিচু সড়ক ও অলিগলি তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ ও পথচারীরা।
নগরের হালিশহর, কাতালগঞ্জ, হামজারবাগ, মুরাদপুর, বিবিরহাট, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, চকবাজার, কাপাসগোলা, রিয়াজউদ্দিন বাজার, জামালখাল ও নুপুর মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি জমেছে। কোথাও হাঁটুসমান, আবার কোথাও তার চেয়েও বেশি পানিতে সড়ক তলিয়ে গেছে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
চট্টগ্রাম পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের উপপরিচালক আবদুর রহমান খান টিবিএসকে জানান, সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায় ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে ১৬৭ মিলিমিটার। বৃষ্টি এখনো চলছে।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত রয়েছে।
বৃষ্টির কারণে নগরের প্রধান সড়কগুলোতে গণপরিবহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। একই সঙ্গে সুযোগ বুঝে রিকশা ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালকেরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া নিচ্ছেন। ফলে পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে একদিকে বেশি সময় লাগছে, অন্যদিকে বাড়তি ভাড়াও গুনতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
বিবিরহাট এলাকার বেসরকারি চাকরিজীবী মো. আশরাফুল আলম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'বাসার সামনে পানি। অফিস তো এসব বুঝবে না, অফিসে যেতে হবে। ২০ টাকার রিকশা ভাড়া এখন ৪০ টাকা দিয়ে এলাম। আমাদের ভোগান্তির শেষ নেই।'
হামজারবাগ এলাকায় গাড়ির জন্য অপেক্ষারত চাকরিজীবী আজগর আলী বলেন, 'গাড়ি এলেই সবাই হুড়মুড় করে উঠে যাচ্ছে। গাড়ির সংখ্যা কম। পানি জমে থাকায় চলাচলেও সমস্যা হচ্ছে।'
এদিকে নগরের নিউমার্কেট এলাকার নুপুর মার্কেটেও ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানি ঢুকে পড়েছে বিভিন্ন বইয়ের দোকানে। এতে দোকানে থাকা বই ভিজে নষ্ট হয়েছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে আরও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।
জলাবদ্ধতার সার্বিক পরিস্থিতি ও পানি নিষ্কাশনে সিটি করপোরেশনের পদক্ষেপ জানতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও নির্বাহী প্রকৌশলী আহম্মদ মঈনুদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি চট্টগ্রামের বাইরে আছেন। প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে সেনাবাহিনীর প্রকল্প পরিচালকের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।
নগরবাসীর অভিযোগ, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতেই একই এলাকাগুলোতে পানি জমে যায়। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
তাদের দাবি, জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে শুধু খাল পরিষ্কার বা পানি সরানোর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নয়, নগরের পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার সমন্বিত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
