বুড়িগঙ্গার নাব্যতা ফেরাতে শুষ্ক মৌসুমে চ্যানেল খনন করবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি: প্রশাসক
বুড়িগঙ্গা নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে আগামী শুষ্ক মৌসুমে নদীর চ্যানেল খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। একই সঙ্গে ড্রেন ও নদীতে পলিথিন বা বর্জ্য না ফেলতে নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ডিএসসিসির আয়োজনে ও প্লান্ট স্কলারের উদ্যোগে 'বৃক্ষবৃত্তি ও সবুজ নগর গঠন' কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
ডিএসসিসির ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের বড়গ্রাম ব্যাটারিঘাট সড়ক ও বুড়িগঙ্গা নদীসংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ।
মো. আবদুস সালাম বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু গাছ লাগালেই হবে না; নদী, খাল, ড্রেন ও রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি সামাজিকভাবে পরিবেশ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি নিরাপদ পৃথিবী উপহার দিতে সবাইকে এ আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই পরিবেশ সুরক্ষায় বেশি করে গাছ লাগানোর তাগিদ দিয়ে আসছেন। আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সুন্দরবন যেমন ঘূর্ণিঝড়সহ বিভিন্ন দুর্যোগ থেকে উপকূলকে রক্ষা করে, তেমনি সারা দেশে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানো হলে তা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে।"
এ সময় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর তাগিদ দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
কামরাঙ্গীরচরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মো. আবদুস সালাম বলেন, "দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার যানবাহন পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকায় প্রবেশের সুবিধার্থে কামরাঙ্গীরচর এলাকায় আট লেনের সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। চলতি অর্থবছরে এ প্রকল্পে ২৩৬ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের ৪৮ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে এটি সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।"
অনুষ্ঠানে বক্তারা বৃক্ষরোপণ, নদী রক্ষা, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
