চলতি মাসেই গঠিত হবে নতুন দুদক কমিশন, প্রত্যাশা নবনিযুক্ত সচিবের
চলতি মাসের মধ্যেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠিত হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংস্থাটির নতুন সচিব মো. সাইদুর রহমান খান।
রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে যোগদান-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসময় নতুন সচিব জানান, দীর্ঘদিন ধরে কমিশন না থাকায় দুদকের কার্যক্রমে বড় ধরনের জট তৈরি হয়েছে, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং এই কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করে ফেলেছে।
এখন সরকারি পর্যায়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠন সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানান।
এই মাসেই কমিশন আসতে পারে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'ইনশাআল্লাহ, আশা করা যায়।'
সাইদুর রহমান খান বলেন, নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে এখন সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার সময়। টেকসই উন্নয়নের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সুশাসন, আর সুশাসনের জন্য দরকার দুর্নীতি প্রতিরোধ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
দুদক সম্পর্কে প্রচলিত নানা ভুল ধারণা ও দুর্নাম দূর করে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও জনবান্ধব করার এবং সেবা সহজ করার পরিকল্পনার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধ, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র পরিচালনা এবং ন্যায়ভিত্তিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় দুদকের ভূমিকার কোনো বিকল্প নেই। তাই সংস্থাটির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার পরিকল্পনার কথা জানান সচিব।
তিনি বলেন, সহকর্মীদের সঙ্গে বসে আলোচনার মাধ্যমে জমে থাকা জট নিরসনে পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং সবসময় অগ্রাধিকারভিত্তিতে কাজ করার চেষ্টা করা হবে। কোন কাজ কতটা জরুরি তার বাস্তবতা, সরকারের অঙ্গীকার ও কর্মপরিকল্পনা বিবেচনায় নিয়ে ঠিক করা হবে এবং নতুন কমিশনের কাছে তা উপস্থাপন করা হবে।
কমিশনের নেতৃত্ব, দিকনির্দেশনা ও পরামর্শ অনুযায়ীই ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, 'আমি একটি রূপান্তরের মিশন নিয়ে এসেছি। আশা করি, দুদকের একটি ইতিবাচক রূপান্তর হবে, যা অচিরেই দৃশ্যমান হবে।'
