বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ, চূড়ান্ত হতে পারে রাষ্ট্রপতির নাম
নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান আলোচনার মধ্যে আজ (১ আগস্ট) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে মূলত নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হতে পারে রাষ্ট্রপতির নাম। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা কিংবা প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হতে পারে।
একইসঙ্গে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ ও দলীয় সাংগঠনিক বিষয়ও বৈঠকে আলোচনা হবে।
২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে আলোচনার মধ্যে বিএনপির জানায়, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি প্রার্থী ঠিক করা হবে।
দলীয় সূত্র জানায়, নতুন রাষ্ট্রপতির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির সভায় দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। তাদের মতামত শোনার পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন তিনি।
সূত্রমতে, আনুগত্য, দক্ষতা, বিচক্ষণতা, সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও জাতীয় সংকটে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার সাহসিকতাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
সিনিয়র ৪ নেতার মধ্যে থেকে হতে পারেন নতুন রাষ্ট্রপতি
নতুন রাষ্ট্রপতির দৌড়ে জোর আলোচনায় থাকা চার সিনিয়র নেতা হলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান ও আবদুল মঈন খান। দলীয় সূত্র বলছে, সংক্ষিপ্ত এ তালিকা থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি আসতে পারেন।
আলোচনায় থাকা সিনিয়র নেতাদের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও নজরুল ইসলাম খান দলীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারা বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সক্রিয় সদস্য। রাষ্ট্রপতি হলে তারা দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকতে পারবেন না। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
এছাড়া বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নামও আলোচনায় রয়েছে। যদিও তাদের সম্ভাবনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক কোনো ইঙ্গিত আসেনি।
সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করা হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেলে স্পিকারের পদ শূন্য হবে। সেক্ষেত্রে শূন্য পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান আসতে পারেন।
২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের পরের ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেক্ষেত্রে ২২ অক্টোবরের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সেই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ২৮ জুলাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে বসেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন।
সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ব্যালটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়। এজন্য সংসদ সচিবালয় থেকে ভোটার তালিকা বা সংসদ সদস্যদের নাম নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সভায় সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) থাকেন এ নির্বাচনের 'নির্বাচনি কর্তা'। সাধারণত স্পিকার ও সিইসির বৈঠকের পর নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করে।
তফসিল ঘোষণার পর তাতে মনোনয়নপত্র জমা, বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ও ভোটের তারিখ উল্লেখ থাকবে। ভোট হবে সংসদ কক্ষে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হবে। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হবে।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে একাধিক প্রার্থী থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একবারই সংসদ কক্ষে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর প্রতিবারই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
একাধিক প্রার্থী হলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে নির্বাচনি কর্মকর্তা ভোটের আয়োজন করবেন। নির্ধারিত ব্যালট পেপারে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে নিজের স্বাক্ষর দিয়ে তা জমা দেবেন সংসদ সদস্যরা। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার প্রকাশ্যে ভোট গণনা করবেন। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
