চট্টগ্রামে মাছের ঘেরের আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষ-গোলাগুলি, নিহত ১
চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে মাছের ঘেরের আধিপত্য ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আরও দুজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার সরল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম সরল এলাকার বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন বেড়িবাঁধের একটি মাছের ঘেরে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (৩০) ওই এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয়দের তথ্যমতে, মাছের ঘেরের মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ ও লাভের অংশীদারত্ব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর জেরে শুক্রবার গভীর রাতে উভয় পক্ষের লোকজন মাছের ঘেরে জড়ো হলে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে তিনজন গুলিবিদ্ধ হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে জিল্লুর রহমানকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। গুলিবিদ্ধ বাকি দুজনকে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, উপজেলার সরল ইউনিয়নে মনছুর গ্রুপ ও কবির গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মাছের ঘের ও লবণ মাঠের দখল নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল দিবাগত রাতে মাছের ঘের দখল নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের লোকজন আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে অংশ নেন। এর এক পর্যায়ে জিল্লুর রহমানের শরীরে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলি এসে লাগে। খবর পেয়ে বাঁশখালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হক দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস)- বলেন, 'এটি নতুন কোনো বিরোধ নয়, অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। তবে এর সঙ্গে কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ জড়িত নয়। এখানে মূলত দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল।'
গোলাগুলির বিষয়ে তিনি বলেন, 'ঘটনাস্থল একটি প্রত্যন্ত এলাকা। সেখানে গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, আমাদেরও হেঁটে যেতে হয়েছে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'এ ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ অন্তত ৭০-৮০ জন পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।'
ওসি রবিউল হক বলেন, 'নিহত ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।'
