গ্যাস সংকটে ভোগান্তি: রাজধানীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে সিএনজি, আয় কমেছে চালকদের
দেশজুড়ে চলমান গ্যাস সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে। রাজধানীর বিভিন্ন স্টেশনে গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে চালকদের।
অনেক স্টেশনে চাপ কম থাকায় নির্ধারিত সময়েও গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে যেমন যাত্রী পরিবহনে বিঘ্ন ঘটছে, তেমনি চালকদের দৈনিক আয়েও ভাটা পড়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাজধানীর তেজগাঁও ও মগবাজার এলাকার কয়েকটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ব্যক্তিগত যানবাহন। অনেক চালক দুই থেকে তিন ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস নিতে পারছেন না।
মোহাম্মদপুরের সিএনজি অটোরিকশা চালক মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, 'দুপুর থেকে লাইনে আছি। দুই ঘণ্টার বেশি হয়ে গেছে, এখনও গ্যাস পাইনি।'
তিনি বলেন, 'এই সময়টায় অন্তত তিন-চারটা ট্রিপ দিতে পারতাম। গ্যাসের জন্য বসে থাকলে সংসার চলবে কীভাবে?'
রাইড-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম উবার-এ গাড়ি চালানো মো. আরিফ হোসেন বলেন, 'গ্যাস না পেলে ট্রিপ বাতিল করতে হয়। যাত্রীরাও বিরক্ত হন। প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা শুধু গ্যাসের জন্য নষ্ট হচ্ছে। এতে আয় কমে যাচ্ছে, আবার জ্বালানির অনিশ্চয়তার কারণে কাজের পরিকল্পনাও করা যাচ্ছে না।'
রাজধানীর একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের অপারেটর নাজমুল হাসান বলেন, 'আমাদের কাছে পর্যাপ্ত গ্যাস চাপ আসছে না। চাপ কম থাকায় গাড়িতে গ্যাস ভরতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। চালকেরা ক্ষুব্ধ হচ্ছেন, কিন্তু আমাদেরও কিছু করার নেই। যতটুকু গ্যাস পাচ্ছি, সেটাই সরবরাহ করছি।'
উল্লেখ্য, কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
টার্মিনালটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের সরবরাহ কমে গেছে।
বর্তমানে টার্মিনালটির মেরামত কাজ শুরু হলেও চলতি মাসের মধ্যে এটি পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে দেশের চলমান গ্যাস সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনাও কম বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
