সিইউএফএল চালুর তৃতীয় দিনেই আবার বন্ধ সার উৎপাদন, কাঁচামাল সংকটে বন্ধ ডিএপিএফসিএল-টিএসপিও
চট্টগ্রামে দীর্ঘ ছয় মাস পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরেছিল চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)। কিন্তু উৎপাদন শুরুর তৃতীয় দিনেই যান্ত্রিক ত্রুটিতে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এ সার কারখানাটি।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টা থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
এর আগে দীর্ঘদিন গ্যাস সংকটে উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু করে কর্তৃপক্ষ। তবে চালুর তিন দিনের মধ্যেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ফের উৎপাদন বন্ধ করতে হয়েছে।
সিইউএফএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমান টিবিএসকে বলেন, 'যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ত্রুটি সারিয়ে উৎপাদনে ফেরার চেষ্টা করছি। এখন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক রয়েছে।'
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীন সিইউএফএল চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় অবস্থিত। কারখানাটিতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া এবং ৮০০ টন অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে নাইট্রোজেনসমৃদ্ধ প্রিল্ড ইউরিয়া সার উৎপাদনের লক্ষ্যে কারখানাটি স্থাপন করা হয়।
১৯৮৫ সালের অক্টোবরে সিইউএফএলের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ১৯৮৭ সালের ২৯ অক্টোবর পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যায় এবং ১৯৮৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। জাপানের মেসার্স টয়ো ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন ছিল কারখানাটির জেনারেল কন্ট্রাক্টর।
কাঁচামাল সংকটে বন্ধ ডিএপিএফসিএল ও টিএসপি
সিইউএফএলের পাশাপাশি চট্টগ্রামে আরও দুটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) ও টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেডের (টিএসপিসিএল) উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে ডিএপিএফসিএল আনোয়ারার রাঙ্গাদিয়ায় এবং টিএসপিসিএল পতেঙ্গায় অবস্থিত।
ডিএপিএফসিএলে কাঁচামাল সংকটের কারণে গত ২৮ জুন থেকে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। বিদেশ থেকে কাঁচামাল সরবরাহের জন্য একটি বেসকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া চললেও এখনো কাঁচামাল কারখানায় পৌঁছায়নি। তবে কাঁচামাল পাওয়া গেলে অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএপিএফসিএলের অতিরিক্ত প্রধান রসায়নবিদ আবু মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম টিবিএসকে বলেন, 'কাঁচামাল সংকটের কারণে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। কাঁচামাল কারখানায় পৌঁছালে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে। কাঁচামাল সংকট ছাড়া উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বড় কোনো জটিলতা নেই।'
দেশের কৃষি খাতে সুষম সারের ব্যবহার নিশ্চিত এবং যৌগিক সারের চাহিদা মেটাতে ডিএপিএফসিএল প্রতিষ্ঠা করা হয়। কারখানাটিতে প্রতিদিন ৮০০ মেট্রিক টন করে উৎপাদন সক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। চলতি অর্থবছরে কারখানাটির প্রস্তাবিত বার্ষিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার টন ধরা হলেও দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় তা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।
অন্যদিকে, কাঁচামাল সংকটে গত ১ জুলাই থেকে টিএসপিসিএলের উৎপাদনও বন্ধ রয়েছে। টিএসপি সার উৎপাদনে প্রয়োজনীয় রক ফসফেট ও ফসফরিক অ্যাসিড বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হয় সালফার ও সালফিউরিক অ্যাসিডের। সাধারণত রক ফসফেট জর্ডান ও মরক্কো থেকে এবং সালফার মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। ফসফরিক অ্যাসিডও চীন ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
টিএসপিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্যিক) ও বিভাগীয় প্রধান মো. আব্দুল মমিন সরকার টিবিএসকে বলেন, 'কাঁচামাল সংকটে ১ জুলাই থেকে উৎপাদন বন্ধ। মধ্যপ্রাচ্যের সংকটে কাঁচামাল আমদানি বন্ধ থাকায় কারখানাটি চালানো যাচ্ছে না।'
স্বাভাবিক সময়ে টিএসপিসিএলের দৈনিক প্রায় ৩৫০ টন সার উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। আগে কারখানাটির বার্ষিক উৎপাদনের ডিজাইন সক্ষমতা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার টন। বর্তমানে কার্যকর সক্ষমতা প্রায় ৯০ হাজার টনে নেমে এসেছে। দেশে বছরে প্রায় ৮ লাখ টন টিএসপি সারের চাহিদা রয়েছে। এর বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন থেকে প্রায় ১ লাখ টন সরবরাহ করা হয়।
