‘ভোট কারসাজি, দমন-পীড়নের অভিযোগ’, বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হচ্ছে আরও ১৭ পুলিশ কর্মকর্তাকে
আওয়ামী লীগের প্রতি আনুগত্য, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের ওপর দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ১৭ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুমোদনের জন্য বুধবার (২২ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, আগামী দুই-একদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।
তালিকায় থাকা কর্মকর্তারা হলেন- উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোহাম্মদ আবদুল্লাহীল বাকী, ওয়ালিদ হোসেন ও সানা শামীনুর রহমান; অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ তবারক উল্লাহ, মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, বিধান ত্রিপুরা, সহেলী ফেরদৌস, এ কে এম ইকবাল হোসেন, মো. হাবিবুর রহমান, ফয়সল মাহমুদ, আবদুর রহিম শাহ, হাসিনা রহমান, কানিজ ফাতেমা ও সুলতানা নাজমা হোসেন; পুলিশ সুপার (এসপি) আবদুর রহিম শাহ চৌধুরী এবং উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান।
তালিকায় থাকা অন্তত দুজন কর্মকর্তা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) এ তথের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তাদের একজন বলেন, 'এটি যদি সরকারের সিদ্ধান্ত হয়ে থাকে, তাহলে আমাদের কিছুই করার নেই।'
সরকারি নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ২০০১ সালের ৩১ মে পুলিশ ক্যাডারে যোগ দেন।তালিকায় রয়েছেন ৩ জন উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), ১২ জন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন পুলিশ সুপার (এসপি) এবং একজন উপ-পুলিশ কমিশনার।
নথিতে অভিযোগ করা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তা আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ পদায়ন পেয়েছেন।
এছাড়া ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে অনিয়মে সহযোগিতা, বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
তিন নারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও নথিতে স্থান পেয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, রেবেকা সুলতানা ও জেসমিন বেগম ক্যান্টনমেন্টের বাসভবন থেকে খালেদা জিয়াকে উচ্ছেদের ঘটনায় যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ফরিদা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বিরোধী দল দমনে ভূমিকা রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।
নথিতে আরও বলা হয়েছে, কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোপন তথ্য ফাঁস, টেলিফোনে আড়িপাতা, মাদক পাচার, আর্থিক দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশাগত অসদাচরণের অভিযোগ রয়েছে।
কক্সবাজারের সাবেক এসপি এ কে এম ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ইয়াবা পাচারে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং ডিআইজি ওয়ালিদ হোসেনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন ও দুর্নীতির অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে একই বিধানে ৩৩ জন জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল। নতুন এই ১৭ জনকে যুক্ত করলে এ ধরনের ব্যবস্থার আওতায় আসা জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সংখ্যা দাঁড়াবে ৫০ জন।
গত ৩ মে বাংলাদেশ পুলিশে কর্মরত বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৭ জন ডিআইজি (উপমহাপরিদর্শক) ও অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার।
এর আগে গত ২২ এপ্রিল পুলিশের ১১ জন ডিআইজি এবং ২ জন অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার। তারা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও দপ্তরে দায়িত্বরত ও সংযুক্ত ছিলেন।
