মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রির টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল, এক্সপ্রেসওয়েতে মিলল মরদেহ
রাজধানীর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে টেপ মারা অবস্থায় যে ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, তার নাম ইসমাইল। তিনি গ্রামের বাড়ি জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন। সকালে তার পৌঁছানোর কথা থাকলেও তিনি পৌছাননি। বারবার ফোন করেও তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। পরে পুলিশের কাছ থেকে পরিবারটি ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পায়।
ইসমাইলের পরিবারের দাবি, মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতেই জামালপুর থেকে গাজীপুরে ফিরছিলেন ইসমাইল। তার কাছে ছিল জমি বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিল। মরদেহটি উদ্ধারের পর টাকা ও ফোন পাওয়া যায়নি।
ইসমাইলের ছেলে মো. হাসান জানিয়েছেন, তার ছোট বোন শারমিনের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার জন্যই তার বাবা গাজীপুরে যাচ্ছিলেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে পরিবারের সঙ্গে ইসমাইলের সর্বশেষ কথা হয়। ওইদিন রাত সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন ইসমাইল। সে হিসেবে সকালে গাজীপুরের জিরানীতে পৌঁছানোর কথা ছিল তার। কিন্তু তিনি পৌঁছাননি।
হাসান জানান, নির্ধারিত সময়ে বাবাকে আনতে গিয়ে তিনি বারবার ফোন করেন। কিন্তু দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বনানী থানা থেকে তাদের গ্রামের পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করে ইসমাইলের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানানো হয়। পরে হাসান তার বাবার মৃত্যুর খবরটি জানতে পারেন।
পরিবারটির দাবি, মেয়ের বিয়ের জন্য সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন ইসমাইল। সেই টাকা থেকে দুই লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ এবং গ্রামের বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণে কিছু টাকা ব্যয় করেন। এরপর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা তার কাছে ছিল।
ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আগে গাজীপুরের ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন।
এদিকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা-জামালপুর রুটে চলাচলকারী বাবুল পরিবহনের একটি বাসের চালক সোহেল রানাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বাসটি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মহাখালী এলাকায় র্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের একটি সূত্র দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে নিশ্চিত করেছে। তবে গ্রেপ্তার অন্য দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
জানতে চাইলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আক্তার হোসেন টিবিএসকে বলেন, "এ বিষয়ে আগামীকাল সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে ডিএমপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাবেন।"
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন কয়েকটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যার পর কোনো একটি গাড়ি থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ ফেলে দেওয়া হতে পারে।
তবে ইসমাইলকে বাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছিল কি না, তার সঙ্গে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন কোথায় গেছে এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশের প্রবেশমুখ থেকে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা-পুলিশ।
পুলিশ জানায়, মরদেহের গায়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ব্যবহৃত ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট এবং পরনে লুঙ্গি ছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
