সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের ভাঙাচোরা সড়ক নিয়ে সিসিক প্রশাসকের ক্ষোভ, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান
সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার সড়কের দুরবস্থা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। সড়কটি অবিলম্বে সংস্কারের জন্য সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে নগরের কদমতলীতে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা পরিদর্শন করেন সিসিক প্রশাসক। এ সময় টার্মিনালের প্রধান প্রবেশপথের সড়কে বড় বড় গর্ত এবং সেগুলোতে পানি জমে থাকতে দেখে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় সড়কটি দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানান তিনি।
ভিডিওতে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, "আমি যেখানে দাঁড়িয়ে আছি, এটি সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের প্রধান ফটক। এই পথ দিয়েই যানবাহন টার্মিনালে প্রবেশ করে। অথচ সড়কজুড়ে বড় বড় গর্ত এবং সেগুলোতে পানি জমে আছে।"
সিটি করপোরেশনের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, "অনেকে বলতে পারেন, আপনি প্রশাসক হয়ে শুধু গর্ত দেখাচ্ছেন কেন, গর্ত ভরাট করছেন না কেন। কিন্তু আমি যে সড়কে দাঁড়িয়ে আছি, হুমায়ুন রশীদ চত্বর থেকে মেন্দিবাগ ও কুমারপাড়া হয়ে বিমানবন্দর পর্যন্ত এই সড়কটির মালিকানা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের।"
তিনি আরও বলেন, "সড়কটি সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তরের জন্য আমরা বারবার চেষ্টা করেছি। এটি আমাদের অধীনে থাকলে নগরের অন্যান্য সড়কের মতো সংস্কার করতে পারতাম। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সওজ সড়কটি হস্তান্তর করছে না। আবার মেরামতের কথা বললেও তারা তেমন কর্ণপাত করে না।"
সিসিক প্রশাসক বলেন, "সড়কটির মালিক কোন সংস্থা, সাধারণ মানুষ তা দেখতে চায় না। তারা ভালো সড়ক দিয়ে চলাচল করতে এবং নগরকে সুন্দর দেখতে চায়।"
সওজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, "অবিলম্বে এই সড়ক সংস্কার করুন। মঙ্গলবারও সওজ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, কিন্তু বুধবার পর্যন্ত কোনো উদ্যোগ দেখতে পাইনি।"
সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করতে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সড়কটি মেরামত করা হবে বলেও জানান তিনি।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, "আমি প্রকৌশলীদের নির্দেশ দিয়েছি, আজই কাজ শুরু হবে। অন্তত গর্তগুলো ভরাট করে দেওয়া হবে। তবে স্থায়ী সংস্কার সওজকেই করতে হবে। আশা করি, সওজ কর্মকর্তারা দ্রুত উদ্যোগ নেবেন। অন্যথায় জনগণ ক্ষুব্ধ হয়ে উঠবে।"
সিসিক প্রশাসকের পরিদর্শনের সময় সিলেটের পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট জেলা সভাপতি মঈনুল হক বলেন, টার্মিনাল এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সেসব গর্তে পানি জমে যাওয়ায় এলাকায় প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ভাঙাচোরা সড়কের কারণে যানবাহনের যন্ত্রাংশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
এ বিষয়ে বুধবার দুপুরে সওজ সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী খাইরুল বাশার মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন বলেন, "টার্মিনাল এলাকাসহ নগরের ভাঙাচোরা সড়কগুলোর প্রাথমিক সংস্কারকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে।"
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের জন্য দরপত্র আহ্বান করতে হবে এবং সেই প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।
