সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতি অবনতির শঙ্কা, তিন নদীর ৪ পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপরে পানি
ভারী বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স কো-অর্ডিনেশন সেন্টার (এনডিআরসিসি)।
সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশিত 'দৈনিক দুর্যোগ পরিস্থিতি' প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কয়েকটি নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও শেরপুর জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন নদীগুলোর মধ্যে তিনটি নদীর চারটি স্টেশনে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর ছাতক স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জ স্টেশনে ১৭ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। কুশিয়ারা নদীর শেওলাবাজার স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার এবং ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে ৮ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।
এনডিআরসিসি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা-কুশিয়ারা নদীব্যবস্থার পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আগামী দুই দিন তা অব্যাহত থাকতে পারে। বিশেষ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে। একই সময়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারি-গোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী, ভোগাই-কংসসহ বিভিন্ন নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। বর্তমানে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে এবং দুধকুমার নদীর পানি পাটেশ্বরী স্টেশনে সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হচ্ছে।
নদ-নদীর সার্বিক অবস্থার তথ্যে দেখা যায়, পর্যবেক্ষণাধীন ১২৭টি পানি সমতল স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৪৪টিতে হ্রাস পেয়েছে এবং দুটি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদীর সংখ্যা তিনটি এবং এসব নদীর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলো হলো সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা।
এদিকে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন স্থানে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে জামালপুরে ২০৯ মিলিমিটার। এছাড়া কুমিল্লায় ১৪৮ মিলিমিটার, সুনামগঞ্জের লাউড়েরগড়ে ১৫৭ মিলিমিটার ও ছাতকে ১২৫ মিলিমিটার, চট্টগ্রামে ১৩৩ মিলিমিটার এবং বগুড়ায় ১৬৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
দুর্যোগ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১১ জুলাই রাত ১২টা থেকে ১২ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত সারা দেশে মোট পাঁচটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের নির্বাহী পরিচালক দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, 'উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি আরও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী এবং নিম্নাঞ্চলগুলোতে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।'
