হরমুজ প্রণালির কাছে ১১৫ দিন আটকে থাকার পর দেশে ফিরছেন ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ১৭ নাবিক
মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে প্রায় চার মাস হরমুজ প্রণালির কাছে আটকে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ 'বাংলার জয়যাত্রা'র ১৭ জন নাবিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি পেয়ে দেশে ফিরছেন।
গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) রাতে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবান থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে রওনা হয়েছেন। দুবাই হয়ে আজ বিকেল প্রায় ৫টা ২০ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তাদের।
বিএসসির মহাব্যবস্থাপক (শিপ পারসোনেল বিভাগ) ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন এবং টানা দুর্ভোগে নাবিকদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৭ জনকে দেশে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, একজন নাবিক সাধারণত সর্বোচ্চ প্রায় ১১ মাস জাহাজে দায়িত্ব পালন করেন। জাহাজের ৩১ জন নাবিকের মধ্যে যারা এই সময়সীমা পূর্ণ করেছেন বা পূর্ণ করার কাছাকাছি ছিলেন এবং ১১৫ দিন আটকে থাকার কারণে শারীরিকভাবে ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন, তাদের দেশে ফেরার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফেরা নাবিকদের মধ্যে জাহাজের মাস্টার, চিফ অফিসার, প্রকৌশলী, ক্যাডেট ও রেটিং রয়েছেন।
এরই মধ্যে তাদের পরিবর্তে ১৭ জন নতুন নাবিককে ডারবানে পাঠানো হয়েছে। তারা জাহাজে উঠে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমান বলেন, পরবর্তী পণ্য বোঝাই শেষে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে 'বাংলার জয়যাত্রা' ডারবান ত্যাগ করবে। জাহাজটির পরবর্তী সম্ভাব্য গন্তব্য মালয়েশিয়া।
তিনি বলেন, জাহাজটি যদি মালয়েশিয়ার কোনো বন্দরে যায়, তাহলে আরও কিছু নাবিককে বদলি করে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
পারস্য উপসাগরে মাসের পর মাস আটকে ছিল জাহাজটি
হরমুজ প্রণালির আশপাশে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় 'বাংলার জয়যাত্রা' প্রায় ১১৫ দিন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে ছিল।
বাংলাদেশের পতাকাবাহী এই বাল্ক ক্যারিয়ারটি শেষ পর্যন্ত ২৩ জুন কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ অতিক্রম করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরে যায়। সেখানে জ্বালানি নেওয়া ও জাহাজের তলদেশ পরিষ্কারের কাজ শেষে এটি ডারবানের উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
২০১৮ সালে নির্মিত জাহাজটির ডেডওয়েট ধারণক্ষমতা ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন এবং এতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক কর্মরত রয়েছেন।
বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক একটি চার্টারের অধীনে জাহাজটি গত ২৬ জানুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে। প্রথমে কাতারের মেসাইদ বন্দর থেকে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে পরিবহন করে। পরে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রায় ৩৭ হাজার টন সার নিয়ে কেপটাউন ও ডারবানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যাত্রা শুরু করে।
এই পুরো সময় জাহাজটি চার্টারের অধীনেই ছিল এবং চার্টার আয়ে কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ায় এপ্রিল মাসে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পাওয়ায় জাহাজটি সেখানে আটকে পড়ে।
অবশেষে কয়েক মাস অপেক্ষার পর জাহাজটি আবার যাত্রার অনুমতি পায়। এরপর উপসাগরীয় অঞ্চল ছেড়ে নির্ধারিত গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করে।
