পেনশন বাড়ছে ৫৫ থেকে ১০০%: মাসে সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা, সর্বনিম্ন ১৮ হাজার টাকা
সর্বনিম্ন ও মধ্যম মাত্রার পেনশন পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় ধরনের আর্থিক স্বস্তির খবর দিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সরকারি কর্মচারীদের নিট পেনশনের হার ৫৫ শতাংশ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে নতুন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এই পুনর্নির্ধারিত সুবিধা কার্যকর হয়েছে বলে গণ্য করা হবে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পিআরএল (অবসরোত্তর ছুটি) ভোগরত কর্মচারীরাও এই সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
পাশাপাশি প্রজ্ঞাপনে আরও একটি বড় প্রশাসনিক স্বস্তি আনা হয়েছে আজীবন পারিবারিক পেনশন ভোগকারী বিধবাদের জন্য। বর্তমানে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, মৃত কর্মচারীর বিধবা স্ত্রী বা বিপত্নীক স্বামীকে আজীবন পারিবারিক পেনশন পাওয়ার জন্য প্রতি বছর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামা হিসাবরক্ষণ অফিসে জমা দিতে হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৫০ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী বিধবাদের ক্ষেত্রে এই অঙ্গীকারনামা বা প্রত্যয়নপত্র জমা দেওয়ার শর্ত বাতিল করা হয়েছে।
কার কত টাকা পেনশন বাড়ছে
নতুন কাঠামোয় ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে একজন মূল পেনশনভোগী যে নিট পেনশন পেতেন, তার ওপর ভিত্তি করে নতুন নিট পেনশন নির্ধারণ করা হবে। এতে সর্বনিম্ন পেনশন ১৮ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭০ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
৩০ জুন ২০২৬-এ যাদের নিট পেনশন ৯ হাজার টাকা বা তার কম ছিল, তাদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। এক্ষেত্রে নিট পেনশন কোনোভাবেই ১০ হাজার টাকার কম হবে না এবং সর্বোচ্চ ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত থাকবে।
একইভাবে ৯ হাজার এক টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন যারা পান, তাদের পেনশন বাড়বে ৭৫ শতাংশ। এই ক্যাটাগরির পেনশনভোগীরা সর্বনিম্ন ১৮ হাজার এক টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ হাজার টাকা পাবেন।
২০ হাজার এক টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত যারা নিট পেনশন পান, তাদের পেনশন বাড়বে ৬৫ শতাংশ। যার সর্বনিম্ন সীমা ৩৫ হাজার এক টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৩০ হাজার এক টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত যারা নিট পেনশন পান, তাদের বাড়বে ৬০ শতাংশ। যার সর্বনিম্ন সীমা হবে ৪৯ হাজার এক টাকা, আর সর্বোচ্চ ৬২ হাজার টাকা।
৪০ হাজার এক টাকা বা তার বেশি পেনশনধারীদের সুবিধা বাড়বে ৫৫ শতাংশ। যার সর্বনিম্ন সীমা ৬২ হাজার এক টাকা এবং সর্বোচ্চ সীমা ৭০ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে যেসব পেনশনভোগী ইতোমধ্যে ৭০,২০০ টাকার বেশি নিট পেনশন তুলছেন, তাদের ক্ষেত্রে পরবর্তী বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট (১ জুলাই ২০২৭) পর্যন্ত বর্তমান সুবিধাই বহাল থাকবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ ন্যুনতম ৫ বছর রাখা হয়েছে। কেউ ৫ বছর চাকরি করার পরে চাকরি ছাড়লে তিনি মূল বেতনের ২১ শতাংশ পেনশন পাবেন। এভাবে পরবর্তী ২৫ বছর চাকরি পর্যন্ত মূল বেতনের কত ভাগ পেনশন পাওয়া যাবে, তা উল্লেখ করা হয়েছে প্রজ্ঞাপনে।
গ্রস পেনশন নির্ধারণের বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ১০ বছর চাকরিতে মূল বেতনের ৩৬ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ এবং ২০ বছরে ৭২ শতাংশ পেনশন পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ২১ বছরে ৭৫ শতাংশ, ২২ বছরে ৭৯ শতাংশ, ২৩ বছরে ৮৩ শতাংশ ও ২৪ বছরে ৮৭ শতাংশ পেনশন পাওয়া যাবে। ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরির ক্ষেত্রে আগের মতোই ৯০ শতাংশ পাওয়া যাবে।
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগে মৃত্যু বা অক্ষমতায় বিশেষ সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে প্রজ্ঞাপনে। চাকরি ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে স্বাস্থ্যগত কারণে অযোগ্য বা অক্ষম হলে বা মারা গেলে, চাকরির প্রতি বছরের জন্য শেষ আহরিত ৩টি মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ পরিবারকে এককালীন বিশেষ আর্থিক সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।
এ ছাড়া অবসের যাওয়ার সময় অর্জিত ছুটি পাওনা সাপেক্ষে ১৮ মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ নগদায়ন সুবিধা পাবেন। পিআরএল ভোগ না করলেও এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
