গুজব–অপতথ্য প্রচারে ১০ বছর জেল: সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিলের আহ্বান সিপিজের
সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল অথবা সেটি উল্লেখযোগ্যভাবে সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)।
সংগঠনটি বলছে, প্রস্তাবিত সংশোধনীতে কর্তৃপক্ষের কাছে 'অযাচাইকৃত' বা 'ভিত্তিহীন' বলে বিবেচিত তথ্য প্রকাশকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কাজ বন্ধ এবং সংবাদমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) নির্বাচিত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে এক পরামর্শ সভায় প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো নিয়ে আলোচনা করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।
একাধিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশোধিত আইনে নতুন একটি ধারা (২৬/ক) যুক্ত করে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সাইবার পরিসরে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচার করলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। কেউ এ ধরনের অপরাধ করলে তিনি অনধিক ১০ বছর কারাদণ্ড ভোগ করবেন বা অনধিক ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
খসড়া আইন অনুযায়ী, কোনো অনলাইন কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের কাছে 'ভিত্তিহীন বা অযাচাইকৃত' মনে হলে এবং তা জনমনে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক বা অস্থিরতা তৈরি করলে সেটিকে আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হতে পারে।
প্রস্তাবিত সংশোধনীতে সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানকেও আইন লঙ্ঘনের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে আদালত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিল করতে পারবে।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর কুনাল মজুমদার বলেন, বাংলাদেশের সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীগুলো এতটাই বিস্তৃত যে, তা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে সংগৃহীত ও তথ্য যাচাই করা সংবাদ প্রকাশের সুযোগ থাকতে হবে, এমনকি সেই তথ্য কর্তৃপক্ষ অনুমোদন না করলেও।
তার মতে, সাইবার অপরাধসংক্রান্ত আইন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপব্যবহারের নজির বাংলাদেশে রয়েছে এবং ভুল তথ্য মোকাবিলার নামে বর্তমান সরকারের সেই একই ধারা অনুসরণ করা উচিত নয়।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশৃঙ্খলা ঠেকানো এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষার জন্য এসব সংশোধনী আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
