চট্টগ্রামে আবারও বৃষ্টি শুরু, হালকা থেকে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস, সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত
টানা ও ভারী বর্ষণে চট্টগ্রামে সৃষ্ট বন্যার পানি নামতেই আবারও বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় অঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি আবার কখনও কখনও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা।
এমন পরিস্থিতিতে সমুদ্র বন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে চট্টগ্রামের অনেক স্থানে অল্প অল্প বৃষ্টি হয়েছিল। তবে বিকাল থেকে আকাশ মেঘলা এবং থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হচ্ছে।
আবহাওয়া ও ভূ-প্রাকৃতিক কেন্দ্রের 'চট্টগ্রাম কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত' উপপরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রহমান খান দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, 'মৌসুমি বায়ু সক্রিয় রয়েছে এবং নিম্নচাপ রয়েছে। এজন্য আগামী কয়েক দিন উপকূলীয় এলাকাজুড়ে বৃষ্টি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। হালকা থেকে মাঝারি আবার ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে। তবে গত সপ্তাহের মতো এতো বেশি হবে না।'
এর আগে গত ৫ জুলাই থেকে চট্টগ্রামে টানা ও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়। দশ দিনে প্রায় ১ হাজার ৪০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রাম জেলার ১৭৬টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৫ হাজার ২২৮টি বাড়িঘর, ৪০৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রায় ১ হাজার ৪৯২ কিলোমিটার সড়ক এবং ১৬৯টি সেতু ও কালভার্ট।
টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বাঁশখালীর প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সাতকানিয়ার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যায় বসতবাড়ি, কৃষিজমি, মাছের ঘের, দোকানপাট ও যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ১৩ জুলাই থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় এলাকাগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছিল। তবে এখন আবার বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় পুনর্বাসন নিয়ে নতুন শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
