সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফটক ভাঙচুর
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হওয়া শিক্ষার্থীদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এদিকে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের মূল ফটক ভাঙচুর করেছেন আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।
আজ মঙ্গলবার বিকালে দ্বিতীয় দফায় রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরে তারা মিছিল নিয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে যান। সংসদে অধিবেশন চলার সময় সংসদের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা 'ভুয়া', 'ভুয়া' বলে স্লোগান দেন।
প্রথমে পুলিশ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. ফজলুল করিম টিবিএসকে বলেন, শিক্ষার্থীরা সংসদ ভবনের সামনে এলে তাদের দাবির বিষয়ে কথা বলার জন্য প্রতিনিধি দল পাঠাতে বলা হয়। কিন্তু তারা ভেতরে যেতে চায়নি। পরে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফটক ভাঙচুর
এদিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ফটক ভাঙচুর করেছেন। আজ বিকেল ৫টার দিকে তারা ফটকটি ভাঙচুর করেন।
এদিন শিক্ষার্থীরা তাদের ৭ দফা দাবি আদায়ে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নগরের ২ নম্বর গেট মোড় অবরোধ করেন। পরে তারা মিছিল নিয়ে চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের দিকে যান। তারা শিক্ষা বোর্ডের ফটকের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক মোহাম্মদ জহিরুল হক স্বপনের সাথে শিক্ষার্থীদের ঘণ্টাব্যাপী আলোচনা হয়। আলোচনা শেষে কিছু আন্দোলনকারী বোর্ডের প্রধান ফটক ভাঙচুর করেন।
এর আগে দুপুরে শিক্ষা বোর্ডের সচিবের সঙ্গে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী ওই বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ৭ দফা দাবি নিয়ে আলোচনা হয়।
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব টিবিএসকে বলেন, 'বৈঠকে শিক্ষার্থীরা মোট সাতটি দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে যেগুলো শিক্ষা বোর্ডের এখতিয়ারভুক্ত এবং বাস্তবায়নযোগ্য, সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় অধিকাংশ দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বা ইতিবাচকভাবে সেগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কয়েকটি দাবি শিক্ষা বোর্ডের ক্ষমতার বাইরে হওয়ায় সেগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়।'
সচিব বলেন, 'বিক্ষোভ চলাকালে একপর্যায়ে কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের একটি অংশ ভেঙে ফেলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও আনসার সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে কোনো ধরনের সংঘর্ষ বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ ধৈর্যের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো পাল্টাপাল্টি অবস্থানে যাননি এবং সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন।'
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, প্রশ্নপত্রে ত্রুটির জন্য দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং উত্তরপত্রের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা, প্রশ্ন প্রণয়নে মান ও পাঠ্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা, শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকা এবং শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া, সামগ্রিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ১৩ জুলাই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা ও নষ্ট হওয়া প্রবেশপত্র-নিবন্ধন কার্ড পুনরায় ইস্যু এবং অবশিষ্ট পরীক্ষার জন্য বাস্তবসম্মত নতুন সময়সূচি প্রণয়ন ও কঠিন বিষয়গুলোর আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সময় নিশ্চিত করা।
