বন্যাদুর্গত ১১ জেলায় চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, বন্যাকবলিত ১১ জেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করেছে সরকার। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম মোতায়েন করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বন্যা উপদ্রুত এলাকায় গৃহীত স্বাস্থ্য কার্যক্রম নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন এসব তথ্য জানান।
এসময় মন্ত্রী বলেন, 'সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য মাঠপর্যায়ে অ্যান্টিভেনম পাঠানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৯৫ জন সাপে কাটা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে বন্যাকবলিত এলাকায় এখনও কলেরা আক্রান্তের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।'
তিনি বলেন, 'বন্যা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, স্যালাইন, অ্যান্টিভেনম ও অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রী দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।'
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বন্যাকবলিত প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগার ও সরবরাহ দপ্তরে (সিএমএসডি) ১ হাজার ভায়াল এবং মাঠপর্যায়ে ২১ হাজার ভায়ালসহ মোট প্রায় ২২ হাজার ভায়াল অ্যান্টি-স্নেক ভেনম মজুদ রয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২৫ হাজার ভায়াল সরবরাহ করা হবে।'
বন্যা-পরবর্তী পানিবাহিত রোগ মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে প্রায় ৭৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৯৯ প্যাকেট ওরস্যালাইন, ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৭৯ ব্যাগ কলেরা স্যালাইন এবং প্রায় ৩৬ লাখ ১৯ হাজার ৫৭২টি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুদ রয়েছে। এছাড়া সিএমএসডিতে প্রায় ৯৯ হাজার ৯৯৫ ব্যাগ নরমাল স্যালাইন সংরক্ষিত আছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মজুদ থেকে দ্রুত সরবরাহ করা হবে।
স্বাস্থ্য পরামর্শের জন্য ২৪ ঘণ্টা চালু জাতীয় স্বাস্থ্য বাতায়নের হটলাইন ১৬২৬৩ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমের হটলাইন ০১৭৫৯-১১৪৪৮৮ নম্বরে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
সংক্রামক রোগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বন্যার পাশাপাশি সংক্রামক রোগ পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩২৩ জন এবং মারা গেছেন ২৫ জন। গত বছরের একই সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৫৫।
অন্যদিকে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৪৮০ জন। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৫০০ জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে। ইতোমধ্যে ৯০ হাজার ৬০৫ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।
আদ-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, 'তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সংস্কারমূলক কাজ করছে। এসব কাজ শেষ হলে হাসপাতালটি পুনরায় পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।'
