৬ মাসের মধ্যে পুরোপুরি চালু হচ্ছে বিএমইউ সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) অধীনে নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে পুরোপুরি চালু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে মাইক্রোস্কোপ ও ল্যাবরেটরি সরঞ্জাম হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
হাসপাতালটি কোনো বেসরকারি হাসপাতালের মতো পরিচালিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালটি পরিচালনার জন্য একটি কোম্পানি গঠন করা হবে, তবে এটি সম্পূর্ণ অলাভজনক ভিত্তিতে কাজ করবে।
তিনি বলেন, 'এটি একটি সরকারি হাসপাতাল হিসেবেই থাকবে, তবে এর ব্যবস্থাপনা হবে আধুনিক ও করপোরেট ধাঁচের।'
মন্ত্রী জানান, সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল এবং থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের মতো ওয়ান-স্টপ ইমার্জেন্সি সার্ভিস মডেল চালু করা হবে এই হাসপাতালে।
তিনি বলেন, 'আমরা ইতিমধ্যে ভবন নির্মাণ করেছি এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করেছি। এটি একটি উচ্চমানের হাসপাতাল হবে।' সাধারণ মানুষ যাতে সাশ্রয়ী মূল্যে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন, সেজন্য সরকারই চিকিৎসার ফি নির্ধারণ করে দেবে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে দেশি-বিদেশি উভয় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে এখানে নিয়োজিত করা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
'আমি আশা করি আগামী ৬ মাসের মধ্যেই এই হাসপাতাল পুরোপুরি চালু হবে', বলেন তিনি।
দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জ্বর কমে গেলেও পুরোপুরি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র (ডিসচার্জ) না দিতে হাসপাতালগুলোকে কড়া নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, প্লাজমা লিকেজ ডেঙ্গু রোগীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এ লক্ষ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি প্যানেল একটি দৈনিক চিকিৎসা প্রোটোকল তৈরি করেছে, যা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হচ্ছে এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরাসরি চিকিৎসকদের কাছে পাঠানো হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকার গত দুই মাস ধরে দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাচ্ছে। এছাড়া রোগী ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এডিস মশার লার্ভা ধ্বংস করতে নতুন প্রযুক্তি আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডাব বা নারিকেলের খোসা, পুরোনো টায়ার এবং অন্যান্য ছোট পাত্রে জমে থাকা পানিতে ব্যবহারের জন্য বিশেষ এক ধরনের মেডিকেল ট্যাবলেট সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ট্যাবলেটগুলো দ্রুত মশার লার্ভা ধ্বংস করবে এবং ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সাহায্য করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা যদি ক্রমাগত বাড়তেই থাকে, তবে রোগীদের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ভ্রাম্যমাণ বা মোবাইল হাসপাতাল মোতায়েন করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নিতে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
