ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাতের আঁধারে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের পোস্টারিংয়ের অভিযোগ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ক্যাম্পাসে সোমবার (৬ জুন) দিবাগত গভীর রাতে পোস্টার ও ব্যানার লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মীরা এ পোস্টারিং করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার গভীর রাতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগানোর কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আজ মঙ্গলবার সকালেও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে এসব ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা হয়।
ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবন, ঝাল চত্বর, রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার এবং বিজ্ঞান অনুষদের গেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার ও ব্যানার লাগানো হচ্ছে। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাসুদ রানা ও রতন রায়কে দেখা গেছে বলেও দাবি করা হয়।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে ক্যাম্পাসের অধিকাংশ স্থানেই পোস্টার আর দেখা যায়নি।
পোস্টারগুলোতে 'প্রত্যাবর্তন ২.০ লোডিং', 'শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার', 'রাস্তাঘাটে লেইখা দে, শেখের বেটি আইতাছে', 'একটা স্লোগানকে তোরা এত ভয় পাস?', 'শামীম মোল্লা, মাসুদ, তোফাজ্জলসহ বিচারবহির্ভূত হত্যার সুষ্ঠু বিচার করতে হবে' এবং 'শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে দেওয়া বহিষ্কারাদেশ অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করে শিক্ষার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে হবে'সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল।
বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ দিয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতারা এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, রাতের আঁধারে নিষিদ্ধ সংগঠন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে, রাতের আঁধারে খুন করে লাশ পুকুরে ভাসানো হয়, আর প্রক্টরিয়াল বডি নাকে তেল দিয়ে ঘুমায়। এর জবাব বর্তমান ইবি প্রশাসনকে দিতে হবে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইসমাইল হোসেন রাহাত বলেন, 'জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী এই ফ্যাসিস্টমুক্ত বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কোনো স্থান নেই। রাতের আঁধারে পোস্টার টাঙিয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার চেষ্টা হাস্যকর। বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।'
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, 'জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের নির্যাতনের ক্ষতও এখনও শিক্ষার্থীদের মনে রয়ে গেছে। তাই তাদের কোনো ধরনের অপতৎপরতা মেনে নেওয়া হবে না। শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সব অপচেষ্টা প্রতিহত করা হবে।'
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, 'রাত ৩ টার দিকে ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তাকর্মীদের পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তারা কীভাবে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে, তা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।'
তিনি আরও বলেন, 'রাতেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা হয়েছে এবং বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।'
