চট্টগ্রামে বিরল ৬৩ রাজ কাঁকড়া উদ্ধার: নীল রক্ত সংগ্রহের অভিযোগ, মৃত ৫৮
চট্টগ্রাম নগরীর ষোলশহর রেলস্টেশন এলাকার ফুটওভার ব্রিজের নিচ থেকে বিরল প্রজাতির ৬৩টি রাজ কাঁকড়া উদ্ধার করেছে বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। উদ্ধার হওয়া এই প্রাণীগুলোর মূল্যবান 'নীল রক্ত' সংগ্রহ করে ব্যথা উপশমের ওষুধ তৈরির নামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। তবে উদ্ধারের সময় দেখা যায়, ৬৩টি কাঁকড়ার মধ্যে ৫৮টিই মারা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেলে পরিবেশ ও প্রাণী সংরক্ষণে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন 'সেভ দ্য নেচার'-এর সদস্যরা রাজ কাঁকড়া প্রদর্শন ও রক্ত সংগ্রহের বিষয়টি দেখতে পান। পরে তারা বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ এবং জেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীগুলো উদ্ধার করেন।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীরা জানিয়েছেন, রাজ কাঁকড়া সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এ প্রাণীর নির্বিচার আহরণ ও রক্ত সংগ্রহের মতো কর্মকাণ্ড এর অস্তিত্বের জন্য বড় হুমকি। সংরক্ষিত এই প্রজাতি রক্ষায় কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
সেভ দ্য নেচার চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সভাপতি জসিম উদ্দিন চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মুস্তাকিম মাহমুদ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মারুফ উল ইসলাম জানান, কয়েকজন ব্যক্তি প্রকাশ্য স্থানে রাজ কাঁকড়া প্রদর্শন করছিলেন এবং সেগুলোর শরীর থেকে রক্ত সংগ্রহ করে ওষুধ হিসেবে বিক্রি করছিলেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
অভিযান সম্পর্কে বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা দীপান্বিতা ভট্টাচার্য গণমাধ্যমকে বলেন, 'অভিযানে আটক দুই ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে, তারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপকূলীয় এলাকা থেকে এসব রাজ কাঁকড়া সংগ্রহ করেছিলেন। তারা মূলত এগুলোর নীল রক্ত সংগ্রহ করে ওষুধ তৈরির কাজে ব্যবহার করতেন।'
আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি আরও জানান, বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী রাজ কাঁকড়া তফসিল-২ ভুক্ত একটি সংরক্ষিত প্রাণী। ফলে এই প্রাণী আহরণ, সংরক্ষণ, পরিবহন বা প্রদর্শন আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
তবে ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত না থাকায় এবং অভিযুক্তরা নিজেদের অজ্ঞতার কথা জানানোয় পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যদিও এটি একটি আমলযোগ্য অপরাধ।
উদ্ধার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে কর্মকর্তারা জানান, জীবিত উদ্ধার হওয়া ০৫টি রাজ কাঁকড়া চট্টগ্রামের পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে অবমুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, মারা যাওয়া ৫৮টি রাজ কাঁকড়া পরিবেশসম্মত উপায়ে মাটিচাপা দেওয়া হবে।
