৬৪ জেলা গোপালগঞ্জ বানাতে পারলে হাসিনাকে পালাতে হতো না: সংসদে আশরাফ উদ্দিন
বাজেট বরাদ্দ যেন কেবল মন্ত্রীদের এলাকায় সীমাবদ্ধ না থাকে, তা নিশ্চিত করে দেশের ৩০০ আসনেই সুষম উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন নরসিংদী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন। তিনি বলেন, 'যদি শেখ হাসিনা ৬৪টা ডিস্ট্রিক্ট গোপালগঞ্জ বানাতে পারতেন, তাহলে ওনাকে আজ দেশ ছেড়ে পালাতে হতো না।'
রবিবার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
বাজেট বক্তৃতায় আশরাফ উদ্দিন সুষম বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, 'বাজেট শুধু মন্ত্রীদের এলাকার জন্য নয়। যদি মন্ত্রীরা সব উন্নয়ন নিয়ে যান, তাহলে ৩০০ আসনের তো দরকার নাই। সুষম বণ্টনের মাধ্যমেই বাজেট সফল করতে হবে। সবার উপকার করতে হবে এবং সব এলাকার একসাথে উন্নয়ন করতে হবে।'
তিনি বলেন, 'বিএনপি আমলে নরসিংদী-৩ আসনের এমপি যখন এলজিইডি মন্ত্রী ছিলেন, ওনার এলাকায় ৯৯ শতাংশ রাস্তা পাকা হয়েছিল। কিন্তু আমার আসন পাশের এলাকা হওয়া সত্ত্বেও তখন ৫ শতাংশ রাস্তাও পাকা হয়নি। তার মানে কি নিজের এলাকা উন্নয়নের জন্য মন্ত্রীই হতে হবে?'
বাজেটে আমদানিনির্ভর ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা ও দেশি শিল্পের প্রতি বৈষম্যের কঠোর সমালোচনা করেন এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, 'ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলো অনেক শক্তিশালী। বাজেটে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অত্যাবশ্যকীয় 'স্যান্ডউইচ প্যানেল রুম' আমদানিতে বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। একটি ওষুধ কোম্পানি কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে রুম বানিয়ে কোটি কোটি টাকার ওষুধ উৎপাদন করবে ৩০ বছর ধরে। তাদের আমদানিতে মাত্র ১ শতাংশ ডিউটি দেওয়া হয়েছে, যা অযৌক্তিক।'
নিজের শিল্পোদ্যোক্তা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, '২০১২ সালে আমি বাংলাদেশে সর্বপ্রথম স্যান্ডউইচ প্যানেল প্রোডাকশন ফ্যাক্টরি করেছি। ফ্যাসিস্টের আমলে নানা বাধা সত্ত্বেও আমি ইন্ডাস্ট্রিটা টিকিয়ে রেখেছি। আমাদের কাঁচামাল আমদানিতে ৫৮ শতাংশ এবং ৩৭ শতাংশ ডিউটি দিতে হয়। এখন বাইরে থেকে কেউ ১ শতাংশ ডিউটিতে পণ্য নিয়ে এলে আমরা দেশি উদ্যোক্তারা কার কাছে পণ্য বিক্রি করব?'
তিনি সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'এটি একটি মারাত্মক ভুল। যদি আমদানিতে ১ শতাংশ ডিউটি থাকে, তবে আমাদের কাঁচামাল আমদানিতেও ১ শতাংশ ডিউটি দিতে হবে। তা না হলে দেশি ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প মরে যাবে।' এ সময় তিনি স্থানীয় শিল্প সুরক্ষায় শুল্ক কাঠামো পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।
