পতেঙ্গার পানির সংকট কমাতে ভান্ডালজুড়ি শোধনাগারের অব্যবহৃত সক্ষমতা ব্যবহারের উদ্যোগ চট্টগ্রাম ওয়াসার
চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়:নিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ওয়াসা) শহরের উপকণ্ঠের উপকূলীয় এলাকা পতেঙ্গায় পানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ওই এলাকায় অনেক স্থানই এখনো সংস্থাটির নেটওয়ার্কের বাইরে রয়েছে, আর যেসব এলাকায় সংযোগ আছে সেখানেও পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ মিলছে না।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, বোয়ালখালীর ভান্ডালজুড়ি পানি শোধনাগার থেকে কর্ণফুলী নদী পেরিয়ে কর্ণফুলী টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে পতেঙ্গায় পানি সরবরাহ করা হবে। এ লক্ষ্যে টানেলের ভেতরে পাইপলাইন স্থাপনের অনুমতি নিতে ও সেতু বিভাগের অনুমোদন পেতে স্থানীয় সরকার বিভাগে ৩ জুন চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম মোহাম্মদ জানে আলম।
চট্টগ্রাম ওয়াসার তথ্য অনুযায়ী ১,৯৯৪.১৪ কোটি টাকার ভান্ডালজুড়ি পানি সরবরাহ প্রকল্পের আওতায় রয়েছে ৬৬ এমএলডি ক্ষমতাসম্পন্ন ইনটেক সুবিধা, ৬০ এমএলডি পানি শোধনাগার, ১৩৩.৩ কিলোমিটার পাইপলাইন, আনোয়ারায় ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি ভূগর্ভস্থ জলাধার এবং পটিয়ায় ৩ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার একটি ওভারহেড জলাধার।
বোয়ালখালী, পটিয়া, কর্ণফুলী ও আনোয়ারার শিল্প ও আবাসিক এলাকায় পানি সরবরাহের জন্য প্রকল্পটি চালু করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের শেষ দিকে পানি সরবরাহ শুরু হলেও চাহিদা কম থাকায় এর অনেক সক্ষমতাই এখনো অব্যবহৃত রয়েছে।
বর্তমানে প্ল্যান্টটি দৈনিক প্রায় ২ কোটি লিটার পানি শোধন করছে। চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরও ১ কোটি লিটার চাহিদা যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে অবশিষ্ট সক্ষমতা চট্টগ্রাম শহরে সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
চট্টগ্রাম ওয়াসা বর্তমানে চারটি শোধনাগার ও গভীর নলকূপের মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ৫০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে, যা এখনো নগরীর মোট চাহিদার তুলনায় কম।
চিঠিতে ব্যবস্থাপনা পরিচালক উল্লেখ করেন, পতেঙ্গার দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ১০ কোটি লিটার হলেও সরবরাহ মাত্র ৪ কোটি লিটার। আনোয়ারা প্রান্ত থেকে টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহার করে ভান্ডালজুড়ি থেকে প্রায় ২ কোটি লিটার পরিশোধিত পানি পতেঙ্গায় সরিয়ে নিলে ঘাটতি অনেকটাই কমবে এবং প্ল্যান্টের অব্যবহৃত সক্ষমতাও কাজে লাগবে।
বর্তমানে মদুনাঘাট থেকে নিউ মার্কেট বুস্টার স্টেশন হয়ে পতেঙ্গা বুস্টার স্টেশনের মাধ্যমে দৈনিক ৩ থেকে ৪ কোটি লিটার পানি পতেঙ্গায় সরবরাহ করা হয়।
৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সড়ক পর্যন্ত পানি পৌঁছালেও ভেতরের অনেক এলাকায় এখনো সরবরাহ পৌঁছায়নি। উপকূলীয় এলাকা হওয়ায় লবণাক্ততার মাত্রা বেশি, ফলে পানির চাহিদাও তুলনামূলক বেশি।
চট্টগ্রাম ওয়াসা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ৩,৭০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার মাধ্যমে নগরীর পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সংস্কার করা হবে এবং ৫৫টি নতুন গভীর নলকূপ স্থাপন করা হবে। তবে পতেঙ্গায় সরবরাহ বাড়াতে গেলে এর আগে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পাইপলাইন (এর মধ্যে ওই এলাকার পাইপলাইনও রয়েছে) প্রতিস্থাপন করতে হবে।
ভান্ডালজুড়ি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম বলেন, টানেলের ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহারের অনুমতি এর আগেও চাওয়া হয়েছিল, তবে তখন তা দেওয়া হয়নি। তিনি টিবিএসকে বলেন, 'প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় আমরা ইউটিলিটি ডাক্ট ব্যবহারের অনুমতি চেয়েছিলাম, কিন্তু সেতু কর্তৃপক্ষ রাজি হয়নি। এখন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবার উদ্যোগ নিয়েছেন।'
জানে আলম বলেন, প্রস্তাবটি বুধবার সেতু কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছেছে এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যে মতামত পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, 'অনুমতি পেলে পতেঙ্গায় পানি সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হবে। এতে দীর্ঘদিনের পানিসংকট অনেকটাই সমাধান হবে।'
