চট্টগ্রামে লিগ্যাল এইডের মধ্যস্থতায় ২৭ বছর পর বাবার স্বীকৃতি পেলেন ছেলে, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল পরিচয়
২৭ বছরের দীর্ঘ পরিচয়-অনুসন্ধানের অবসান ঘটেছে চট্টগ্রামে। ডিএনএ পরীক্ষায় বাবা-ছেলের জৈবিক সম্পর্ক (বায়োলজিক্যাল রিলেশন) নিশ্চিত হওয়ার পর মধ্যস্থতার মাধ্যমে বাবার স্বীকৃতি ও উত্তরাধিকারের অধিকার পেয়েছেন এক ব্যক্তি।
রোববার (৮ জুন) চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের উদ্যোগে এ পুনর্মিলন ঘটে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা সুব্রত দাস বলেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং একজন মানুষের আইনগত পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতা ও আইনি সহায়তা কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এ ঘটনা তারই এক বিরল ও তাৎপর্যপূর্ণ উদাহরণ।
জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছেলের জন্মের সময় তার বাবা বিদেশে কর্মরত ছিলেন। জন্মের কিছুদিন পরই তার বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরে তার মা দ্বিতীয় বিয়ে করেন।
মামার কাছে বেড়ে ওঠা ওই সন্তান জীবনের অধিকাংশ সময় বাবার পরিচয় ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছাড়া কাটিয়েছেন।
২০২৪ সালে তিনি পিতৃত্বের স্বীকৃতি চেয়ে চট্টগ্রাম জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে আবেদন করেন। তবে ডিএনএ পরীক্ষায় পিতৃত্ব প্রমাণিত হলেই ছেলেকে স্বীকৃতি দেবেন বলে জানান বাবা।
পরে জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা সুব্রত দাসের নেতৃত্বে মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়। কার্যালয়ের প্যানেলভুক্ত দুই আইনজীবীর মাধ্যমে মা, বাবা ও ছেলের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়।
রোববার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ে জমা দিলে মামলায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আসে।
প্রতিবেদনে ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ নিশ্চয়তার সঙ্গে উল্লেখ করা হয় যে, তারা জৈবিকভাবে বাবা ও ছেলে।
সমঝোতার অংশ হিসেবে বাবা ছেলেকে প্রকাশ্যে নিজের সন্তান হিসেবে স্বীকৃতি দিতে এবং তাকে উত্তরাধিকারের অধিকার প্রদান করতে সম্মত হয়েছেন।
এখন থেকে ছেলে বাবার বাসভবনে বসবাস করবেন। আগামী শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সামনে তাকে নিজের ছেলে হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা রয়েছে বাবার।
মামলার সফল নিষ্পত্তি উপলক্ষে জেলা লিগ্যাল এইড কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বাবা ও ছেলেকে টি-শার্ট উপহার দেওয়া হয়।
পরিবারের সদস্যরা তাদের পুনর্মিলনে সহায়তা করার জন্য লিগ্যাল এইড কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
