৬ দাবিতে চমেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি নোটিশকে 'অযৌক্তিক' আখ্যা দিয়ে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। একইসঙ্গে ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন তারা।
বুধবার (৩ জুন) ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন (আইডিএ), চমেক হাসপাতাল শাখার ২০২৫-২৬ কার্যনির্বাহী কমিটির দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. ইরফানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আল্টিমেটামের কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার অতন্দ্র প্রহরী ও সেবার মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসক সমাজ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, অবহেলা ও নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি। চিকিৎসকদের মেধা, শ্রম ও আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন না করে বিভিন্ন বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা চিকিৎসক সমাজের মধ্যে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে।
চিকিৎসকরা বলেন, পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, ন্যায্য অধিকার আদায় এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তারা আন্দোলনে নামতে বাধ্য হয়েছেন। জনস্বার্থ ও চিকিৎসকদের যৌক্তিক অধিকারের স্বপক্ষে ৬ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক ১৯ মে ২০২৬ তারিখে এফসিপিএস ট্রেইনিং সংক্রান্ত গৃহীত সিদ্ধান্ত ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাতিল করে নতুন নির্দেশনা জারি করা, স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা।
এছাড়া সুনির্দিষ্ট বেতন কাঠামোর আওতায় ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের নবম গ্রেডের সমমানের বেতন দেওয়া এবং বেসরকারি চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বেতন কাঠামো প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
চিকিৎসকদের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ, বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করে বিএমডিসির নিবন্ধন ছাড়া অবৈধভাবে চিকিৎসক পরিচয়দানকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বিসিপিএস ও বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ভর্তি পরীক্ষার ফি এক হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চিকিৎসা শিক্ষা সম্পন্ন করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হওয়ায় অনেক চিকিৎসক বিদ্যমান বয়সসীমার কারণে চাকরিতে প্রবেশের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। একইসঙ্গে ভুয়া চিকিৎসকদের দৌরাত্ম্যে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে বলে দাবি করেন তারা।
ইন্টার্ন চিকিৎসকরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে চিকিৎসক সমাজ আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করতে বাধ্য হবে।
