চমেকে উত্তেজনা, এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের হামলার অভিযোগ
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে – জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) – পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন শুরুর প্রস্তুতিকালে, অ্যাম্বুলেন্স সমিতির নেতাকর্মীদের হামলা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শী ও এনসিপি নেতারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার পরপরই সংবাদ সম্মেলন করেন এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সদস্য সচিব আরিফ মঈনুদ্দিন। তিনি অভিযোগ করেন, হাসপাতালকেন্দ্রিক কথিত অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের অনিয়ম ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায়, তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি বানচাল করতে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এতে তাদের কয়েকজন নেতাকর্মী হয়রানি ও ধস্তাধস্তির শিকার হন বলে দাবি করেন তিনি।
পরবর্তীতে বিকেল ৫টার দিকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, চমেক হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র রোগী ও মরদেহ পরিবহনে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।
তাদের দাবি, এ চক্র নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে এবং বাইরে থেকে আসা অ্যাম্বুলেন্সকে হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরিফ মঈনুদ্দিন বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীতে একটি মরদেহ পরিবহনের জন্য ৯ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করা হলেও—সরকারি তালিকা অনুযায়ী তা ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকার মধ্যে হওয়ার কথা। একইভাবে নোয়াখালী রুটে ১২ হাজার টাকা দাবি করা হলেও – বাইরে থেকে কম ভাড়ার একটি অ্যাম্বুলেন্স আনা হলে – সেটিকে হাসপাতাল এলাকায় প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, "কিছু অ্যাম্বুলেন্স বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই চলছে এবং মাইক্রোবাসের লাইসেন্স ব্যবহার করে অ্যাম্বুলেন্স সেবা পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট কিছু গাড়ি রেখে একটি গোষ্ঠী একচেটিয়া ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে।"
এনসিপি নেতারা বলেন, হাসপাতাল এলাকায় সেবা গ্রহণকারী অধিকাংশই নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। চিকিৎসার ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়ার অতিরিক্ত চাপ—সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়াচ্ছে। তারা উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর দাবি জানান, যাতে যেকোনো বৈধ অ্যাম্বুলেন্স রোগী পরিবহনে অংশ নিতে পারে।
অন্যদিকে, চমেক অ্যাম্বুলেন্স সমিতির নেতারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, তারা প্রশাসনের অনুমোদিত নিয়ম ও সিরিয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করে সেবা দিয়ে আসছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি বা সংগঠন ব্যক্তিগতভাবে চাপ সৃষ্টি করে আলোচনায় বসতে চাইলেও, তারা প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো সমঝোতায় যাননি।
সমিতির নেতারা আরও বলেন, তাদের কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উচ্ছেদের চেষ্টা, হুমকি এবং প্রশাসনে অভিযোগ দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কাগজপত্র যাচাই করে সেবা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। চাঁদাবাজির অভিযোগও তারা অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল ইসলাম জানান, "হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।"
তিনি আরও জানান, এনসিপি তাদের কর্মসূচি শেষ করে স্থান ত্যাগ করেছে এবং বর্তমানে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। সামান্য ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটলেও বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষ হয়নি বলে জানান তিনি।
